রবিবার ● ৯ আগস্ট ২০২৬
গলাচিপায় সাপের কামড়ে বিএনপি নেতার মৃত্যু, তদন্ত কমিটি গঠন
হোম » পটুয়াখালী » গলাচিপায় সাপের কামড়ে বিএনপি নেতার মৃত্যু, তদন্ত কমিটি গঠন
![]()
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, গলাচিপা (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর গলাচিপায় সাপের কামড়ে বিএনপি নেতা জাকির মৃধার (৪৫) মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসায় কোনো অবহেলা বা গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রবিবার (৯ আগস্ট) পটুয়াখালীর সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত কমিটির সভাপতি করা হয়েছে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারি) ডা. শেখ শহিদুল ইসলামকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন পটুয়াখালীর বক্ষব্যাধি ক্লিনিকের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. রেজাউর রহমান। কমিটির সদস্যসচিব করা হয়েছে পটুয়াখালীর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট (মেডিসিন) ডা. তাসমিয়া ছালছাবিলকে।
অফিস আদেশে বলা হয়েছে, কমিটির সদস্যদের সরেজমিনে তদন্ত করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।
গত শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে গলাচিপা সদর ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে সাপের কামড়ে আক্রান্ত হন জাকির মৃধা। পরিবারের ভাষ্য, তিনি ঘরের খাটের ওপর বসে পা ঝুলিয়ে বাদাম খাচ্ছিলেন। এ সময় একটি সাপ তার ডান পায়ে কামড় দেয়। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাকে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
নিহত জাকির মৃধা গলাচিপা সদর ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের মৃধা বাড়ির মো. ফজলুল করিম মৃধার ছেলে। তিনি স্থানীয় বিএনপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
নিহতের বড় ভাই ও সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল অদুদ মৃধার অভিযোগ, হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ ও প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা না দিয়ে জাকির মৃধাকে পটুয়াখালীতে রেফার করেন। পরে অ্যাম্বুলেন্সে পটুয়াখালী নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তিনি সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
তবে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. জান্নাতুল নাঈম তানহা বলেন, রোগীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তার রক্তচাপ ও হার্ট রেট অনেক বেশি ছিল। কার্ডিয়াক সমস্যার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সিনিয়র চিকিৎসকদের সঙ্গে পরামর্শ করে অ্যান্টিভেনম না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর কোনো ধরনের জটিলতা দেখা দিলে তা মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসুবিধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেই। বিশেষ করে আইসিইউ সাপোর্ট না থাকায় রোগীর স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা ও তাদের সম্মতিতে অক্সিজেন দিয়ে তাকে পটুয়াখালীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়।
গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মেজবা উদ্দিন সাগরকন্যাকে বলেন, ‘কর্তব্যরত চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, রোগীর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। এ কারণে অ্যান্টিভেনম দেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে রোগীকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য পটুয়াখালীতে রেফার করা হয়েছে।’
তদন্ত কমিটি চিকিৎসা প্রদান, অ্যান্টিভেনম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত, কর্তব্যরত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের দায়িত্ব পালন এবং রোগীকে রেফার করার প্রক্রিয়াসহ সার্বিক বিষয় খতিয়ে দেখবে। প্রতিবেদনে চিকিৎসাসেবায় কোনো অবহেলা বা গাফিলতি ছিল কি না, তা উল্লেখ করা হবে।
বাংলাদেশ সময়: ২০:২৮:৩৭ ● ২৯ বার পঠিত
