শনিবার ● ৮ আগস্ট ২০২৬
গ্যাসের চাপ কম থাকলে দ্রুত রান্না সারানোর সহজ কৌশল
হোম » লাইফস্টাইল » গ্যাসের চাপ কম থাকলে দ্রুত রান্না সারানোর সহজ কৌশল
সাগরকন্যা লাইফস্টাইল ডেস্ক
ইদানীং রান্নাঘরে ঢুকলেই যেন একধরনের প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়। গ্যাস যতক্ষণ আছে, তার মধ্যেই সারা দিনের রান্না শেষ করতে হবে। কিন্তু এই তাড়াহুড়ায় অনেক সময় দেখা যায়, কাজের চেয়ে ঝামেলাই বাড়ছে। গ্যাস আসার আগেই রান্নার প্রয়োজনীয় কাজগুলো গুছিয়ে রাখলে অল্প সময়ে অনেকটাই সামলে নেওয়া সম্ভব।
চুলায় গ্যাসের দেখা মিললেই কোনটা রেখে কোনটা রাঁধব এ নিয়ে দ্বিধায় পড়েন অনেকেই। প্রথমেই ভাত বা রুটির পাশাপাশি শিশু ও বয়স্কদের জন্য প্রয়োজনীয় খাবার তৈরি করে নিন। এরপর দ্রুত তৈরি হয় এমন পদ, যেমন ডিম ভাজি বা পোচ, সবজি ভাজি কিংবা মাছ ভাজা মূল রান্নার ফাঁকে ফাঁকে সেরে ফেলতে পারেন। এতে অল্প সময়েই দুই থেকে তিনটি পদ তৈরি হয়ে যাবে।
গ্যাস আসার পর তাড়াহুড়া না করে আগে থেকেই কিছুটা পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি রাখুন। গ্যাস আসার আগেই সবজি কাটা, ধোয়া ও খোসা ছাড়ানোর কাজ শেষ করে রাখুন। মাছ বা মাংস রান্না করতে হলে ফ্রিজ থেকে আগেই বের করে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আনুন। মাংস আগে থেকে মেরিনেট করে রাখলে রান্নার সময় কমে এবং মাংস নরম ও সুস্বাদু হয়। মাছ-মাংস ধুয়ে পরিষ্কার কাপড় বা কাগজ দিয়ে বাড়তি পানি মুছে পাত্রে গুছিয়ে রাখুন।
আদা-রসুন বাটার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় গুঁড়া মসলা পানিতে গুলে পেস্ট তৈরি করে রাখতে পারেন। ভাত রান্নার জন্য চাল অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট আগে ভিজিয়ে রাখলে দ্রুত সেদ্ধ হয়। চাইলে ভাত রান্নার সময় চালের সঙ্গেই ডিম বা আলু সেদ্ধ করে নিতে পারেন। এতে একই সময়ে একাধিক কাজ হয়ে যাবে।
দুটি বার্নারেই গ্যাস থাকলে এক চুলায় কেটলিতে পানি গরম করে রাখতে পারেন। তরকারি, ঝোল বা ডালে ঠান্ডা পানির পরিবর্তে ফুটন্ত গরম পানি ব্যবহার করলে রান্না দ্রুত ফুটতে শুরু করে এবং সময়ও কম লাগে।
রান্না শুরুর আগে সিঙ্ক ও কাউন্টারটপ থেকে অপ্রয়োজনীয় থালাবাসন সরিয়ে নিন। চুলার চারপাশও পরিষ্কার রাখুন। পরিচ্ছন্ন কর্মক্ষেত্র রান্নার গতি বাড়ানোর পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কমায়।
বারবার গ্যাসের জন্য অপেক্ষা না করে একবারেই দুই থেকে তিন বেলার প্রধান রান্না শেষ করে ফেলতে পারেন। পেঁয়াজ, রসুন, আদা ও প্রয়োজনীয় গুঁড়া মসলা দিয়ে ভালোভাবে কষিয়ে বেশি পরিমাণে একটি বেসিক মসলা তৈরি করে সংরক্ষণ করা যায়। গ্যাস এলে সেই মসলা ব্যবহার করে দ্রুত তরকারি বা ঝোল রান্না করা সম্ভব।
এক পাত্রে রান্না হয় এমন খাবারও এ ক্ষেত্রে বেশ কার্যকর। ভুনা খিচুড়ি, ফ্রায়েড রাইস বা বিরিয়ানি রান্না করলে মূল খাবার ও প্রোটিন একসঙ্গে তৈরি হয়ে যায়। এতে সময় ও গ্যাস-দুটিই সাশ্রয় হয়।
ডাল রান্না করলে একবারে দুই-তিন বেলার মতো রান্না করে সংরক্ষণ করতে পারেন। খাওয়ার আগে শুধু ফোড়ন দিয়ে নিলেই স্বাদ অনেকটাই টাটকা থাকে। কম গ্যাসে মাংস সিদ্ধ করতে সময় বেশি লাগে। তাই চাইলে আগে থেকেই মাংসের কিমা করে রাখতে পারেন। এতে অল্প গ্যাসেই দ্রুত মাংসের পদ তৈরি করা সম্ভব।
গ্যাসের চাপ কম থাকলে রান্না হতে বেশি সময় লাগে। এ সময় প্রেশার কুকার ব্যবহার করতে পারেন। রান্নার পাত্রে ঢাকনা ব্যবহার করলেও তাপ ধরে রাখা যায় এবং রান্নার সময় কমে। তবে রান্না দ্রুত করতে গিয়ে খাবার পুরোপুরি সেদ্ধ হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
রান্না করা খাবার সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে হবে। দীর্ঘদিন ফ্রিজে রাখা খাবার বারবার গরম করে খাওয়া নিরাপদ নয়। এতে খাবারে জীবাণু বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়তে পারে। রান্না করা খাবার দ্রুত ঠান্ডা করে পরিষ্কার ও ঢাকনাযুক্ত পাত্রে সংরক্ষণ করা উচিত। সাধারণ ফ্রিজে খাবার রাখার সময় খাবারের ধরন ও সংরক্ষণের তাপমাত্রা বিবেচনা করতে হবে। দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করতে হলে উপযুক্ত পাত্রে ডিপ ফ্রিজে রাখা ভালো।
গ্যাস আসার পর দ্রুত রান্না শেষ করার তাগিদ থাকা স্বাভাবিক। তবে তাড়াহুড়া করতে গিয়ে নিজের বা পরিবারের নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলা কোনো সমাধান নয়। একটু আগে থেকে পরিকল্পনা করে কাজ ভাগ করে নিলে গ্যাসের সংকটের মধ্যেও নিরাপদে, কম সময়ে এবং তুলনামূলকভাবে পুষ্টিমান বজায় রেখে রান্না করা সম্ভব।
বাংলাদেশ সময়: ৯:০২:৩১ ● ১৮ বার পঠিত
