বৃহস্পতিবার ● ২৩ জুলাই ২০২৬
সুন্দরবনে চোরা শিকারিদের দৌরাত্ম্য, এক বছরে গ্রেপ্তার ৩৯৬
হোম » বিশেষ প্রতিবেদন » সুন্দরবনে চোরা শিকারিদের দৌরাত্ম্য, এক বছরে গ্রেপ্তার ৩৯৬

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কয়রা (খুলনা)
সুন্দরবনে বন্যপ্রাণী শিকার, বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরা এবং অবৈধভাবে মাছ-কাঁকড়া আহরণের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গত এক বছরে পশ্চিম সুন্দরবনের খুলনা রেঞ্জে ২৯৪টি মামলা দায়ের করে ৩৯৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে বন বিভাগ। একই সময়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সরঞ্জাম ও শিকার করা বন্যপ্রাণী জব্দ করা হয়েছে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে খুলনা রেঞ্জের আওতাধীন সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে ৫ হাজার ৭১২ মিটার হরিণ ধরার ফাঁদ, ৪৮৭ কেজি হরিণের মাংস, ২২টি ট্রলার, ৩৪৯টি নৌকা, ৬ হাজার ৯৮৬টি অবৈধ কাঁকড়া ধরার আটন, ৯ হাজার ৮৩৩ মিটার দৌনদড়ি, ২ হাজার ৬১২ কেজি মাছ এবং ১ হাজার ৯৮১ কেজি অবৈধভাবে আহরিত কাঁকড়া জব্দ করা হয়েছে।
এ ছাড়া সুন্দরবনের নদী ও খালে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ৮৭ বোতল অবৈধ কীটনাশক উদ্ধার করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে ২০৩ কেজি মধুও।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, অভয়ারণ্যে মাছ ও কাঁকড়া ধরার অপরাধে ১০৬টি এবং বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারের ঘটনায় ৩৩টি মামলা হয়েছে। হরিণসংক্রান্ত মামলা হয়েছে ৩৩টি। এ ছাড়া মামলার শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী পিওআর মামলা ৮৪টি, সিআর মামলা চারটি এবং ইউডিআর মামলা ২০৬টি।
এসব মামলায় গ্রেপ্তার ৩৯৬ জনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া ৬৩ জন আসামি পলাতক রয়েছেন। বন্যপ্রাণী শিকার বন্ধে এর সঙ্গে জড়িত ১৩৫ জনের একটি বিশেষ তালিকা তৈরি করে তাদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।
কয়রার কপোতাক্ষ কলেজের সাবেক অধ্যাপক আ, ব, ম আ. মালেক বলেন, জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানো গেলে সুন্দরবনে বন অপরাধ আরও কমানো সম্ভব।
খুলনা রেঞ্জের বিভিন্ন স্টেশন ও টহল ফাঁড়িতে কর্মরত বনকর্মীরা জানান, হরিণ ও অন্যান্য বন্যপ্রাণী শিকার এবং বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরা প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব অভিযানে অবৈধ জাল, নৌকা, আটনসহ বন অপরাধে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের খুলনা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক ও রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, স্মার্ট টহল টিম ও বিশেষ টহল টিম মোতায়েনের পাশাপাশি পায়ে হেঁটে টহল দিয়ে বন অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। তবে অপরাধ উদ্ঘাটন করতে গিয়ে জেলেদের আগ্রাসী আচরণের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, যা বন অপরাধ দমনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
তিনি বলেন, সুন্দরবনে হরিণ শিকার ও বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরা বন্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা প্রয়োজন। জনবল সংকট ও আধুনিক জলযানের অভাবে বিশাল এই বনাঞ্চল পাহারা দেওয়া এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। পাশাপাশি বননির্ভর জনগোষ্ঠীর বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকায় বনের ওপর চাপও কমছে না।
পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এজেডএম হাছানুর রহমান বলেন, বনরক্ষীরা চরম ঝুঁকি ও কষ্ট মাথায় নিয়ে দুর্গম বনে পায়ে হেঁটে এবং নদীতে নৌযানে নিয়মিত টহল দেওয়ায় বন অপরাধ অনেকাংশে কমানো সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া পায়ে হেঁটে টহল, ড্রোনের মাধ্যমে অপরাধী শনাক্তকরণ এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রমের কারণেও বন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সাফল্য এসেছে।
বাংলাদেশ সময়: ১৪:৪৬:০৯ ● ২০ বার পঠিত
