বৃহস্পতিবার ● ২৩ জুলাই ২০২৬
ক্লাস চলাকালে শিক্ষার্থীদের দিয়ে স্কুল ফিডিংয়ের খাবার বহনের অভিযোগ
হোম » শিক্ষা » ক্লাস চলাকালে শিক্ষার্থীদের দিয়ে স্কুল ফিডিংয়ের খাবার বহনের অভিযোগ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, পিরোজপুর
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার ৭৬ নম্বর রাখাতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালে শিক্ষার্থীদের দিয়ে স্কুল ফিডিংয়ের খাবার বহন করে আনার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দ্বীপিকা মিস্ত্রির বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল।
বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিদ্যালয়ের ক্লাস চলাকালে চার শিক্ষার্থীকে মাথায় করে খাবারের চারটি কার্টন নিয়ে বিদ্যালয়ের দিকে যেতে দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে কাউখালী উপজেলার গন্ধর্ব এলাকার চৌরাস্তা থেকে কার্টনগুলো মাথায় করে নিয়ে আসছিল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দিয়ে নিয়মিতই স্কুল ফিডিংয়ের খাবার বহন করে আনা-নেওয়া করা হয়। এতে ক্লাস চলাকালে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি তাদের দিয়ে এমন কাজ করানো নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
স্কুল ফিডিংয়ের খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মী ও বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক কিরনি বলেন, ‘বিদ্যালয়ে যাওয়ার রাস্তা খারাপ হওয়ায় কোনো গাড়ি স্কুল পর্যন্ত যেতে পারে না। তাই আমি প্রতিদিন চৌরাস্তা থেকে খাবার নিয়ে আসি। মাঝে মধ্যে স্কুলের শিক্ষার্থীরা ওই এলাকার দোকানে খাবার কিনতে গেলে আমাকে সাহায্য করতে খাবারের কার্টন মাথায় করে নিয়ে আসে।’
তবে শিক্ষার্থীদের দিয়ে খাবার বহনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দ্বীপিকা মিস্ত্রি। তিনি বলেন, ‘রাস্তা খারাপ হওয়ায় কোনো গাড়ি স্কুল পর্যন্ত আসে না। স্কুল ফিডিংয়ের খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন একজন শিক্ষার্থীর অভিভাবকের মাধ্যমে খাবার বিদ্যালয়ে পৌঁছে দেন। আমি কোনো শিক্ষার্থীকে দিয়ে স্কুল ফিডিংয়ের খাবার বহন করাইনি।’
নেছারাবাদ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মইনুল ইসলাম সাগরকন্যার এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘আপনার মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারলাম। স্কুল ফিডিংয়ের খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নিজেদের দায়িত্বে প্রতিটি বিদ্যালয়ে খাবার পৌঁছে দিয়ে প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর নেবে। শিক্ষকরা যদি শিক্ষার্থীদের দিয়ে খাবার বহন করিয়ে থাকেন, তাহলে তা গুরুতর অন্যায়। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে সত্যতা যাচাই করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বাংলাদেশ সময়: ১৩:০১:২৫ ● ৩২ বার পঠিত
