বৃহস্পতিবার ● ২৩ জুলাই ২০২৬

কলাপাড়ায় শিশুদের মরণফাঁদ ভাসমান সেতু, ভোগান্তিতে ৭ গ্রামের মানুষ

হোম » বিশেষ প্রতিবেদন » কলাপাড়ায় শিশুদের মরণফাঁদ ভাসমান সেতু, ভোগান্তিতে ৭ গ্রামের মানুষ
বৃহস্পতিবার ● ২৩ জুলাই ২০২৬


ঝুঁকি নিয়ে ভাসমান সেতু পারাপার, ভোগান্তিতে ৭ গ্রামের মানুষ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)

 

প্রাকৃতিক দুর্যোগে ছয় বছর আগে ভেঙে পড়া সেতুর স্থানে নির্মিত অস্থায়ী ভাসমান সেতু দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের সাত গ্রামের মানুষ। কাঠ, বাঁশ ও প্লাস্টিকের ড্রাম দিয়ে তৈরি সেতুটি দীর্ঘদিনেও পুনর্নির্মাণ বা টেকসই সংস্কার না হওয়ায় প্রতিদিন ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ, কৃষক ও শিক্ষার্থীরা।

 

বিশেষ করে গামইরতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে সেতুটি পার হয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বৈরী আবহাওয়ায় দোলনার মতো দুলতে থাকা সেতু দিয়ে পারাপারের সময় প্রায়ই পথচারী ও শিশুরা খালে পড়ে যাচ্ছেন। এতে শিক্ষার্থীদের পোশাক ভিজে যাবার পাশাপাশি বই-খাতা নষ্ট হচ্ছে।

 

১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর নীলগঞ্জ ইউনিয়নের পাখিমারা খালের ওপর একটি লোহার সেতু নির্মাণ করে। গামইরতলা ও মজিদপুরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছিল সেতুটি। পাশের ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের বাসিন্দাদের জন্যও এটি ছিল সহজ যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম।

 

তবে নির্মাণের পর প্রায় তিন দশকে সেতুটির উল্লেখযোগ্য সংস্কার না হওয়ায় কাঠামোটি নড়বড়ে হয়ে পড়ে। পরে ২০২০ সালের ২১ মার্চ প্রাকৃতিক দুর্যোগে সেতুটি ভেঙে খালে পড়ে যায়। মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে স্থানীয়ভাবে কাঠ, বাঁশ ও প্লাস্টিকের ড্রাম দিয়ে ভাঙা সেতুর স্থানে একটি অস্থায়ী ভাসমান সেতু নির্মাণ করা হয়।

 

দীর্ঘ ছয় বছর ধরে ওই ভাসমান সেতু দিয়েই সাত গ্রামের মানুষ চলাচল করছেন। কৃষিপণ্য পরিবহনের পাশাপাশি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও কোমলমতি শিশুরাও প্রতিদিন এটি ব্যবহার করছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে সেতুটির সংস্কার না হওয়ায় এটি এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

 

গামইরতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী বাঈজিৎ, তামান্না, ইকরাম হোসেন ও তাসমিয়ার ভাষায়, ‘বৃষ্টির দিনে ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি পার হয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয়। এ সময় অনেক সহপাঠী খালে পড়ে যায়। জোয়ারের পানি বেড়ে গেলে সেতু পার হতে আরও ভয় লাগে।’

 

স্থানীয় বাসিন্দা মো. লিটন সাগরকন্যাকে বলেন, প্রায় সাত গ্রামের মানুষ এই সেতু দিয়ে পারাপার হয়ে থাকে। দিন দিন ভোগান্তি বাড়ছে। কয়েকবার সেতু নির্মাণের কথা শুনলেও আজও তা বাস্তবায়ন হয়নি। দ্রুত স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানাই।

 

গামইরতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পূর্ণিমা রানী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ছোট ছোট শিশুরা ঝুঁকি নিয়ে সেতুটি পারাপার করছে। অনেক সময় অভিভাবকরাও খালে পড়ে গেছেন। কোমলমতি শিশুদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দ্রুত সেতুটি নির্মাণ করা জরুরি।

 

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে যত দ্রুত সম্ভব জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ সময়: ৯:৫৬:৩৮ ● ৩৬ বার পঠিত