বুধবার ● ২২ জুলাই ২০২৬

এলজিইডির প্রত্যয়ন নিয়ে প্রশ্ন নেছারাবাদে শিক্ষা প্রকল্পে ১৫ লাখ টাকার কাজে অনিয়মের অভিযোগ

হোম » লিড নিউজ » এলজিইডির প্রত্যয়ন নিয়ে প্রশ্ন নেছারাবাদে শিক্ষা প্রকল্পে ১৫ লাখ টাকার কাজে অনিয়মের অভিযোগ
বুধবার ● ২২ জুলাই ২০২৬


 

নেছারাবাদে শিক্ষা প্রকল্পে ১৫ লাখ টাকার কাজে অনিয়মের অভিযোগ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, নেছারাবাদ (পিরোজপুর)

 

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪)-এর আওতায় ‘এডুকেশন ইন ইমার্জেন্সি’ প্রকল্পে প্রায় ১৫ লাখ টাকার কাজ বাস্তবায়নে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সাতটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দের বিপরীতে অধিকাংশ বিদ্যালয়ে নামমাত্র সংস্কারকাজ দেখিয়ে বিল উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। এমনকি একটি বিদ্যালয়ে কোনো কাজ না করেই বিল উত্তোলনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নেছারাবাদের সাতটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংস্কার ও মেরামতের জন্য পিইডিপি-৪ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় দুর্যোগ সহনশীল অবকাঠামো উন্নয়ন, বিকল্প শ্রেণিকক্ষ প্রস্তুত, দুর্যোগ প্রস্তুতি পরিকল্পনা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও আনন্দদায়ক শিখন পরিবেশ নিশ্চিত করার কথা ছিল।

 

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, অধিকাংশ বিদ্যালয়ে ভবনের বিভিন্ন স্থানে সামান্য প্লাস্টার, চুনকাম ও রং করা ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোনো কাজ হয়নি। কয়েকটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিভিন্ন দোকান থেকে নির্মাণসামগ্রীর রসিদ সংগ্রহ করে বিল-ভাউচার প্রস্তুত করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রত্যয়ন নিয়ে বরাদ্দের অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, ৭১ নম্বর বিশাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুই লাখ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে ছয় জোড়া বেঞ্চ, একটি সিলিং ফ্যান এবং ভবনের কিছু অংশে রং করা হয়েছে।

 

জগন্নাথকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আড়াই লাখ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে ভবনের কিছু অংশে ঘষামাজা, বালু-সিমেন্টের প্রলেপ, ছাদের কয়েকটি স্থানে প্লাস্টার ও রং করার কাজ দেখা গেছে।

 

বাটনতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুই লাখ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে একটি দরজা মেরামত, ভবনের কিছু অংশে প্লাস্টার ও রং করা হয়েছে বলে দেখা যায়।

 

২১ নম্বর স্বরূপকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২ লাখ ৯৮ হাজার টাকা বরাদ্দের বিপরীতে ভবনের বিভিন্ন স্থানে সীমিত পরিসরে প্লাস্টার ও রং করার কাজ দেখা গেছে।

 

অন্যদিকে, ১৩৯ নম্বর দক্ষিণ করফা গয়েশকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেড় লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও এখনো কোনো কাজ শুরু হয়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তবে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, পুরোনো ভবনের পরিবর্তে নতুন নির্মাণাধীন ভবনে বরাদ্দের অর্থে কাজ করা হয়েছে। বিল উত্তোলনের সব প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে এবং বিল শিক্ষা অফিসে জমা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

 

স্বরূপকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুজন সমদ্দার বলেন, ‘আমরা বরাদ্দের পুরো টাকার কাজ করেছি।’

 

জগন্নাথকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখর বলেন, ‘বিদ্যালয়ের ছাদসহ বিভিন্ন স্থানে প্লাস্টার ও রং করার পাশাপাশি আরও কিছু কাজ করা হয়েছে।’

 

স্থানীয় বাসিন্দা ও বিদ্যালয়ের শুভানুধ্যায়ীদের অভিযোগ, প্রকল্পের বরাদ্দের সঙ্গে বাস্তবায়িত কাজের পরিমাণের সামঞ্জস্য নেই। এছাড়া উপজেলা এলজিইডি অফিসের উপসহকারী প্রকৌশলী বিকাশ চন্দ্র দাস যথাযথভাবে কাজ পরিদর্শন না করেই বিদ্যালয়গুলোকে প্রত্যয়ন দিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

 

অভিযোগ অস্বীকার করে উপসহকারী প্রকৌশলী বিকাশ চন্দ্র দাস বলেন, ‘কাজের মান যাচাই করেই প্রত্যয়ন দেওয়া হয়েছে। শুধু একটি বিদ্যালয়ের প্রত্যয়ন দেওয়া হয়নি।’

 

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাইনুল হোসেন বলেন, ‘এলজিইডির প্রত্যয়ন পাওয়ার পরই বিল পরিশোধ করা হয়। তবে দক্ষিণ করফা গয়েশকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাজ এখনো সম্পন্ন না হওয়ায় তাদের বিল আটকে রাখা হয়েছে।’

 

অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বাংলাদেশ সময়: ১৪:৪৪:৪২ ● ৩০ বার পঠিত