শনিবার ● ১৮ জুলাই ২০২৬
বন্যা মোকাবিলায় বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা ও প্রকৃতিবান্ধব উন্নয়নের আহ্বান
হোম » লিড নিউজ » বন্যা মোকাবিলায় বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা ও প্রকৃতিবান্ধব উন্নয়নের আহ্বান

সাগরকন্যা প্রতিবেদক
সাম্প্রতিক বন্যা শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়; জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের পাশাপাশি অপরিকল্পিত উন্নয়ন, নদী-খাল-জলাশয় দখল, পাহাড় কাটা এবং প্রাকৃতিক পানি প্রবাহে বাধার সম্মিলিত ফল বলে মন্তব্য করেছে পরিবেশবাদী সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)। সংগঠনটি বন্যার মূল কারণ দূর করতে বিজ্ঞানভিত্তিক, পরিবেশসম্মত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে অনুষ্ঠিত ‘সাম্প্রতিক বন্যার তথ্যভিত্তিক পর্যালোচনা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানানো হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ধরা’র সহ-আহ্বায়ক এম. এস. সিদ্দিকী। মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন সদস্য সচিব শরীফ জামিল এবং সঞ্চালনা করেন রিভার বাংলার সম্পাদক ও ধরা’র সদস্য ফয়সাল আহমেদ।
সভাপতির বক্তব্যে এম. এস. সিদ্দিকী বলেন, সাম্প্রতিক বন্যার তীব্রতা বাড়িয়েছে অপরিকল্পিত উন্নয়ন, নদী-খাল ভরাট, পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সম্মিলিত প্রভাব। তিনি জানান, মাঠপর্যায়ের তথ্য, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের অভিজ্ঞতা এবং ৬ থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত প্রকাশিত পাঁচটি জাতীয় দৈনিকের তথ্য বিশ্লেষণ করে ধরা একটি পর্যালোচনা প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। তিনি ব্যক্তি স্বার্থের পরিবর্তে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি বন্যা ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
মূল প্রবন্ধে শরীফ জামিল বলেন, চলতি বছরের ৭ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত টানা অতি ভারী বৃষ্টিপাত, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং আন্তঃসীমান্ত নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি দেশের অন্তত ১৭টি জেলায় ভয়াবহ বন্যা ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করেছে। এতে ১০ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও কুড়িগ্রাম।
তিনি আরও বলেন, বন্যার জন্য শুধু অতিবৃষ্টি দায়ী নয়; নদী-খাল-জলাশয় দখল, নাব্যতা হ্রাস, অপরিকল্পিত সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণ, পাহাড় কাটা, বন উজাড় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সম্মিলিত প্রভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। তার দাবি, ২০২৩ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত তিন পার্বত্য জেলায় সংঘটিত বন্যা ও জলাবদ্ধতার বড় একটি কারণ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথ নির্মাণের প্রভাব।
তিনি নদী অববাহিকাভিত্তিক সমন্বিত পরিকল্পনা, আধুনিক আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, আন্তঃসীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা, নদী-খাল পুনরুদ্ধার, জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দ্রুত পুনর্বাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
হাওর রক্ষায় আমরা-ধরা’র আহ্বায়ক জাফর সিদ্দিক বলেন, বন্যা বাংলাদেশের পরিচিত দুর্যোগ হলেও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত প্রস্তুতি, দ্রুত লজিস্টিক সহায়তা এবং স্থানীয় সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন ধরা’র সদস্য ও শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী, চুনতি রক্ষা আন্দোলন-ধরা’র সমন্বয়ক সানজিদা রহমান, কক্সবাজারের সদস্য ফরিদুল আলম শাহিন এবং মাতামুহুরী এলাকার সদস্য বদরুননাহার কলি। তারা বন্যাকবলিত এলাকার বাস্তব পরিস্থিতি ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলন থেকে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতি নদী অববাহিকাভিত্তিক সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ, প্রাকৃতিক পানি প্রবাহ পুনরুদ্ধার, পরিবেশসম্মত উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতা বিবেচনায় দীর্ঘমেয়াদি বন্যা ব্যবস্থাপনা কৌশল প্রণয়নের আহ্বান জানানো হয়।
বাংলাদেশ সময়: ১৬:১৬:৫৬ ● ২২ বার পঠিত
