বুধবার ● ১৫ জুলাই ২০২৬

বরগুনায় হত্যার এক মাস পরও উদ্ধার হয়নি ব্যবসায়ী শামীমের মাথা

হোম » বরগুনা » বরগুনায় হত্যার এক মাস পরও উদ্ধার হয়নি ব্যবসায়ী শামীমের মাথা
বুধবার ● ১৫ জুলাই ২০২৬


 

বরগুনায় হত্যার এক মাস পরও উদ্ধার হয়নি ব্যবসায়ী শামীমের মাথা

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা

 

বরগুনায় নিখোঁজের পর খাল থেকে উদ্ধার হওয়া ব্যবসায়ী মো. শামীমের (৪০) মাথাবিহীন মরদেহের এক মাস পার হলেও এখনও তার বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও তদন্ত চলমান রয়েছে। জেলা পুলিশ বলছে, হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন ও নিখোঁজ মাথা উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত আছে।

 

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৮ জুন বরগুনা সদর উপজেলার গৌরীচন্না বাজারসংলগ্ন একটি খাল থেকে শামীমের মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগের দিন সন্ধ্যায় তিনি বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন। স্থানীয় বাজারে তিনি হাঁস-মুরগির ব্যবসার পাশাপাশি জমি কেনাবেচা ও অর্থ লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

 

পরদিন সকালে শামীমের ছোট ভাই বাজারে খোঁজ নিতে গিয়ে জানতে পারেন, আগের রাতে তাকে কয়েকজনের সঙ্গে বাজারসংলগ্ন একটি সেতুর পাশে দেখা গিয়েছিল। পরে ঘটনাস্থলে রক্তের দাগ ও একটি জুতা দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের সহায়তায় খালের কচুরিপানার ভেতর থেকে তার মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

ঘটনার পরপরই জড়িত থাকার সন্দেহে সজিব, শ্যামল, সফিক, দুর্জয়, সাগর ও শিমুল নামে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আদালতের অনুমতিতে তাদের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বর্তমানে কারাগারে রাখা হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি।

 

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা দ্রুত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং শামীমের বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি।

 

নিহত শামীমের ছেলে মো. নাইম বলেন, তার বাবা ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তিনি বাবার মাথা উদ্ধার এবং হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

 

শামীমের স্ত্রী রেকসোনা বলেন, ঘটনার পর কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও তিনি কারও নাম উল্লেখ করে মামলা করতে পারেননি। তিনি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা এবং স্বামীর বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধারের দাবি জানান।

 

বরগুনার পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত নৃশংস। বিভিন্ন আলামত বিশ্লেষণ ও তদন্তের ভিত্তিতে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি রয়েছে বলে তদন্তকারীদের ধারণা। তবে আরও কেউ সম্পৃক্ত থাকতে পারে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

তিনি আরও জানান, জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে খালের বিভিন্ন স্থানে পুনরায় জাল ফেলে অনুসন্ধান চালানো হয়েছে। তবে খালে স্রোত এবং একটি স্লুইসগেট থাকায় বিচ্ছিন্ন মাথাটি ভেসে বড় নদীতে চলে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। এরপরও পুলিশ অনুসন্ধান অব্যাহত রেখেছে এবং এটি উদ্ধারে আশাবাদী বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশ সময়: ১২:১৩:৫৬ ● ২৯ বার পঠিত