মঙ্গলবার ● ১৪ জুলাই ২০২৬
টানা বর্ষণে বাউফলে অর্ধশতাধিক পানের বরজ বিধ্বস্ত, বিপাকে সহস্রাধিক চাষি
হোম » কৃষি » টানা বর্ষণে বাউফলে অর্ধশতাধিক পানের বরজ বিধ্বস্ত, বিপাকে সহস্রাধিক চাষি

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বাউফল (পটুয়াখালী)
টানা কয়েক দিনের ভারি বর্ষণে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অর্ধশতাধিক পানের বরজ বিধ্বস্ত হয়েছে। অনেক বরজ মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে, কোথাও আবার পানি জমে গাছ পচে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে পান চাষের ওপর নির্ভরশীল সহস্রাধিক চাষি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। নতুন করে বরজ পুনর্নির্মাণে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় তারা চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার প্রায় ১৮ হেক্টর জমিতে সহস্রাধিক চাষি পানের আবাদ করেছেন। তবে টানা বর্ষণের কারণে নাজিরপুর, বিলবিলাস, বটকাজল, মদনপুরা, ধুলিয়া, আদাবাড়িয়া ও কনকদিয়াসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের অসংখ্য পানের বরজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক বরজের বাঁশের কাঠামো ভেঙে পড়ায় পানের লতা মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে।
বিলবিলাস গ্রামের পানচাষি বেলায়েত খান, জাহাঙ্গীর হোসেন ও জাকির হোসেন জানান, তিন একর বর্গা জমিতে পান চাষ করতে তাদের প্রায় ২১ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। চার মাসের পরিচর্যার পর বরজ প্রস্তুত হলেও কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘পানের বরজই আমার পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস। এই বৃষ্টিতে সব শেষ হয়ে গেছে। এখন সংসার চালাব কীভাবে বুঝতে পারছি না।’
বেলায়েত খান বলেন, ‘ঋণ নিয়ে বরজ করেছি। প্রতিদিন ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা মজুরিতে শ্রমিক দিয়ে কাজ করিয়েছি। ভালো ফলনের আশা ছিল। এখন ঋণের টাকা কীভাবে শোধ করব, সেই চিন্তায় ঘুম নেই।’
বিলবিলাস গ্রামের ইউপি সদস্য শাহ আলম বলেন, ২০২৪ সালে পান রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকেই পানচাষিরা সংকটে রয়েছেন। সে সময় প্রতি আঁটি পানের দাম ১০ থেকে ১৫ টাকায় নেমে আসায় উৎপাদন খরচই উঠছিল না। এবার টানা বর্ষণে বরজ ধসে পড়ায় তাদের দুর্দশা আরও বেড়েছে।
নিজবটকাজল গ্রামের পানচাষি জুরান হাওলাদার বলেন, বর্তমান বাজারদরে উৎপাদন খরচই ওঠে না। তার ওপর বৃষ্টিতে বরজ নষ্ট হওয়ায় অনেক চাষি ঋণের বোঝা নিয়ে পথে বসার আশঙ্কা করছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পানচাষিদের জন্য কৃষি পুনর্বাসন ও বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হোক। অন্যথায় অনেকেই আগামী মৌসুমে পান চাষ থেকে সরে যেতে বাধ্য হবেন।
এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মিলন বলেন, ‘উপজেলায় ১৮ হেক্টর জমিতে সহস্রাধিক চাষি পানের আবাদ করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হবে। বর্তমানে পানচাষিদের জন্য আলাদা কোনো প্রণোদনার ব্যবস্থা না থাকলেও বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।’
বাংলাদেশ সময়: ১০:৫১:২৩ ● ২৭ বার পঠিত
