সোমবার ● ১৩ জুলাই ২০২৬

কুয়াকাটার গভীর সাগরে জেলের জালে ধরা পড়ল এক জোড়া বিষাক্ত ‘লায়নফিশ’

হোম » কুয়াকাটা » কুয়াকাটার গভীর সাগরে জেলের জালে ধরা পড়ল এক জোড়া বিষাক্ত ‘লায়নফিশ’
সোমবার ● ১৩ জুলাই ২০২৬


কুয়াকাটার গভীর সাগরে জেলের জালে ধরা পড়ল এক জোড়া বিষাক্ত ‘লায়নফিশ’

 

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী)

 

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা উপকূলের গভীর বঙ্গোপসাগরে জেলের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির এক জোড়া বিষাক্ত সামুদ্রিক মাছ ‘লায়নফিশ’। সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে মাছ দুটি মহিপুর মৎস্য বন্দরে আনা হলে রঙিন শরীর ও কাঁটাযুক্ত পাখনার কারণে তা দেখতে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে।

 

জানা গেছে, এফবি জাবের নামের একটি মাছ ধরার ট্রলারের জালে মাছ দুটি ধরা পড়ে। পরে সেগুলো মহিপুর মৎস্য বন্দরের মায়ের দোয়া ফিশ আড়তে তোলা হয়। সেখানে স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. ছগির আকন মাছ দুটি কিনে নেন। মাছ দুটির মোট ওজন প্রায় ৮০০ গ্রাম।

 

ট্রলারটির মাঝি আসাদ বলেন, দুই দিন আগে কুয়াকাটা উপকূলের গভীর বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় অন্যান্য মাছের সঙ্গে লায়নফিশ দুটি জালে উঠে আসে। প্রথমে মাছ দুটি চিনতে না পারলেও পরে জানতে পারেন, এগুলো বিষাক্ত লায়নফিশ।

 

স্থানীয় জেলে রহিম মিয়া বলেন, প্রথমে সাধারণ সামুদ্রিক মাছ মনে হয়েছিল। পরে গায়ে লাল, সাদা ও বাদামি ডোরাকাটা দাগ এবং কাঁটার মতো পাখনা দেখে বুঝতে পারি, এটি ভিন্ন ধরনের মাছ।

 

মাছের ক্রেতা মো. ছবির বলেন, মাছ দুটি দেখতে আকর্ষণীয় হওয়ায় তিনি সংরক্ষণ করে রেখেছেন। তবে এগুলো খাওয়ার উপযোগী কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত নন। এর আগেও মহিপুর মৎস্য বন্দরে এ ধরনের একটি মাছ ধরা পড়েছিল।

 

মাছ দুটি বন্দরে আনার পর স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল দেখা দেয়। অনেকে মাছ দুটি দেখতে ভিড় করেন। কেউ কেউ ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শেয়ার করেন।

 

ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ডব্লিউসিএস (ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন সোসাইটি) ও ওয়ার্ল্ডফিশের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, লায়নফিশ দেখতে আকর্ষণীয় হলেও এর পাখনার কাঁটায় বিষ থাকে। অসাবধানতাবশত ওই কাঁটা শরীরে বিঁধলে তীব্র ব্যথা, ফোলা, বমিভাব এবং কখনো শ্বাসকষ্টও হতে পারে। তাই এ মাছ খালি হাতে ধরতে বা স্পর্শ করতে নিষেধ করা হয়।

 

তিনি আরও বলেন, লায়নফিশ সাধারণত ভারত মহাসাগর, বঙ্গোপসাগর, প্রশান্ত মহাসাগর ও লোহিত সাগরের উষ্ণ উপকূলীয় অঞ্চলে পাওয়া যায়। ছোট মাছ, চিংড়ি ও অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণী এদের প্রধান খাদ্য।

 

কলাপাড়া উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, লায়ন ফিশের পাখনার কাঁটায় বিষ থাকে। তাই জেলেদের এ ধরনের মাছ খালি হাতে না ধরার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ সময়: ১২:২৯:২৭ ● ২৪ বার পঠিত