বৃহস্পতিবার ● ৯ জুলাই ২০২৬

ঢাকায় উদযাপিত হলো পণ্ডিত হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়ার বর্ণাঢ্য সংগীতজীবন

হোম » সর্বশেষ » ঢাকায় উদযাপিত হলো পণ্ডিত হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়ার বর্ণাঢ্য সংগীতজীবন
বৃহস্পতিবার ● ৯ জুলাই ২০২৬


ঢাকায় উদযাপিত হলো পণ্ডিত হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়ার বর্ণাঢ্য সংগীতজীবন

 

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, ঢাকা

 

ভারতের হাইকমিশনের ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টার (আইজিসিসি) কিংবদন্তি ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের মহাগুরু ও বিশ্বখ্যাত বাঁশিবাদক পণ্ডিত হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়ার বর্ণাঢ্য সংগীতজীবন উদযাপন উপলক্ষে ঢাকায় এক বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত ইন্ডিয়ান কালচারাল সেন্টারে (আইসিসি) এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

 

অনুষ্ঠানে পণ্ডিত হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়ার ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতে অসামান্য অবদান, বাঁশিকে বিশ্বমঞ্চে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়ার ভূমিকা এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম সংগীতশিল্পী ও সংগীতপ্রেমীদের অনুপ্রাণিত করার বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার শ্রী দীনেশ ত্রিবেদী। বক্তব্যে তিনি পণ্ডিত হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়ার সঙ্গে

 নিজের স্মৃতিচারণ করেন এবং বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনে তাঁর ব্যাপক জনপ্রিয়তার কথা উল্লেখ করে বলেন, এমন শিল্পীরা ভারত ও বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বন্ধনকে আরও গভীর ও শক্তিশালী করে তুলেছেন।

 

অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিল দেশের প্রখ্যাত বাঁশিবাদক গাজী আবদুল হাকিমের সুরমুগ্ধ পরিবেশনা। তিনি ভারতীয় শাস্ত্রীয় রাগ পরিবেশনের মাধ্যমে পণ্ডিত হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

 

পরে পণ্ডিত হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়ার জীবন, সংগীতসাধনা, আন্তর্জাতিক খ্যাতি এবং ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতে তাঁর অনন্য অবদান নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

 

আয়োজকরা জানান, এলাহাবাদে জন্ম নেওয়া পণ্ডিত হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়া ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব। তাঁর সুরের জাদু বিশ্বের নানা প্রান্তে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতকে নতুনভাবে পরিচিত করেছে। অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ভারতের দ্বিতীয় ও তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মবিভূষণ ও পদ্মভূষণ, সঙ্গীত নাটক আকাদেমি পুরস্কারসহ বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। তিনি একাধিকবার বাংলাদেশ সফর করেছেন এবং বেঙ্গল ক্লাসিক্যাল মিউজিক ফেস্টিভ্যালেও অংশ নিয়েছেন।

 

অনুষ্ঠানে কূটনীতিক, বিশিষ্ট শিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, গণমাধ্যমকর্মী, শাস্ত্রীয় সংগীতের শিক্ষার্থী ও বিপুলসংখ্যক সংগীতপ্রেমী অংশ নেন। আয়োজকদের মতে, ভারতীয় শাস্ত্রীয় শিল্পকলার প্রসার এবং সংগীত ও সংস্কৃতির মাধ্যমে ভারত-বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

বাংলাদেশ সময়: ১৮:২৯:২৬ ● ১৬ বার পঠিত