মঙ্গলবার ● ৭ জুলাই ২০২৬
বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ, অন্তরঙ্গ ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে মামলা
হোম » বরগুনা » বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ, অন্তরঙ্গ ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে মামলা![]()
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা
বরগুনায় এক নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ এবং অন্তরঙ্গ ছবি-ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ভুক্তভোগী নারী বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ মো. ওসমান গনি মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), পটুয়াখালীকে আগামী ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে পটুয়াখালীর ধানখালী গ্রামের আলমগীর প্যাদার ছেলে মো. হিরণ প্যাদা (২৫) এবং উর্মি বেগমকে (২৩)। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি রনজুয়ারা সিপু।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগী নারী চট্টগ্রামের একটি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। সেখানে কাজের সুবাদে আসামি হিরণ প্যাদার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে হিরণ তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। ওই প্রস্তাবে সম্মতি দেওয়ার পর তারা চট্টগ্রামে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর থেকে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে একসঙ্গে বসবাস শুরু করেন। এ সময় ভুক্তভোগী একাধিকবার বিয়ে নিবন্ধনের (কাবিন) জন্য অনুরোধ করলেও হিরণ তা করেননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২ জুন হিরণ ভুক্তভোগীকে নিয়ে বরগুনা সদর উপজেলার বুড়িরচরে তার বাবার বাড়িতে বেড়াতে যান এবং সেখানে নিজেদের স্বামী-স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন। পরদিন ৩ জুন কাবিনের কথা বললে হিরণ কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে গোপনে নিজ বাড়িতে চলে যান।
ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ৩ জুন পর্যন্ত বিয়ের আশ্বাস দিয়ে হিরণ তার সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। এ সময় তাদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও গোপনে ধারণ করে উর্মি বেগমের কাছে পাঠানো হয়। পরে উর্মি ওই ছবি-ভিডিও ব্যবহার করে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন এবং একটি ভুয়া ফেসবুক আইডির মাধ্যমে সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া হিরণ নিজেও হোয়াটসঅ্যাপে কিছু অন্তরঙ্গ ছবি ও ভিডিও পাঠিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আসামি হিরণ প্যাদার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এমএইচকে/এমআর
বাংলাদেশ সময়: ১৮:০২:৩৭ ● ২৮ বার পঠিত
