মঙ্গলবার ● ৭ জুলাই ২০২৬
মহিপুর থানাকে প্রশাসনিক উপজেলায় উন্নীতকরণের কার্যক্রম শুরু
হোম » পটুয়াখালী » মহিপুর থানাকে প্রশাসনিক উপজেলায় উন্নীতকরণের কার্যক্রম শুরু

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, মহিপুর (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর মহিপুর পুলিশি থানাকে প্রশাসনিক উপজেলা হিসেবে ঘোষণার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এ-সংক্রান্ত কার্যক্রম দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এ নির্দেশনার ফলে কলাপাড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে প্রশাসনিক মহিপুর উপজেলা গঠনের প্রক্রিয়ায় নতুন গতি এসেছে।
গত ৭ জুন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক-১ (প্রশাসন) মো. মহিউদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক পত্রে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। পত্রটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
জানা গেছে, পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ এবিএম মোশাররফ হোসেন গত ৫ জুন প্রধানমন্ত্রীর কাছে মহিপুর থানাকে প্রশাসনিক উপজেলা হিসেবে ঘোষণার আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেয়।
আবেদনে সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন উল্লেখ করেন, ২০১৬ সালে থানা প্রতিষ্ঠার পর মহিপুরের প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক গুরুত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে মহিপুর থানা চারটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। এখানে দেশের অন্যতম বৃহৎ মৎস্য বন্দর, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তর, ব্যাংক, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান এবং দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন রয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, কুয়াকাটা পর্যটনকেন্দ্রের সঙ্গে মহিপুরের সরাসরি যোগাযোগ, বিপুল জনসংখ্যার প্রশাসনিক সেবার চাহিদা, মৎস্য বন্দরকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় মহিপুরকে প্রশাসনিক উপজেলা ঘোষণা করা জনস্বার্থে অত্যন্ত প্রয়োজন।
এর আগে গত ১ জুলাই প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১২১তম বৈঠকে দেশের তিনটি নতুন উপজেলা ও একটি নতুন থানা অনুমোদন দেওয়া হলেও কুয়াকাটা বা মহিপুরকে উপজেলা ঘোষণার কোনো প্রস্তাব বৈঠকে স্থান পায়নি। বিষয়টি নিয়ে উপকূলীয় অঞ্চলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং কুয়াকাটা ও মহিপুর- উভয় এলাকার বাসিন্দারা নিজ নিজ এলাকাকে উপজেলা ঘোষণার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।
তৎকালীন প্রতিক্রিয়ায় মহিপুর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাজাহান পারভেজ বলেন, মহিপুরকে উপজেলা ঘোষণার দাবিতে সংসদ সদস্যের ডিও (ডেমি-অফিশিয়াল) লেটার সংগ্রহসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছে। নিকারে উপস্থাপনের আগে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্নের কাজ চলমান রয়েছে। মৎস্য বন্দর, ব্যবসা-বাণিজ্য, জনসংখ্যা ও প্রশাসনিক গুরুত্ব বিবেচনায় মহিপুরকে উপজেলা ঘোষণা করা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মতিউর রহমানও কুয়াকাটাকে উপজেলা ঘোষণার দাবি জানিয়ে বলেন, সম্ভাব্যতা যাচাইসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ হলে বিষয়টি নিকারে উপস্থাপন করা হবে বলে তারা আশা করছেন। পর্যটন, অর্থনীতি, যোগাযোগ ও প্রশাসনিক গুরুত্ব বিবেচনায় কুয়াকাটাকেও উপজেলা ঘোষণা যৌক্তিক বলে তিনি মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সর্বশেষ নির্দেশনার ফলে মহিপুরকে প্রশাসনিক উপজেলা ঘোষণার প্রক্রিয়ায় নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে স্থানীয়দের প্রত্যাশা। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন হলে বিষয়টি জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) বৈঠকে উপস্থাপনের পথ আরও সুগম হবে।
দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মৎস্য বন্দর মহিপুর-আলীপুরকে ঘিরে এ উদ্যোগ উপকূলীয় জনপদে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একই সঙ্গে মহিপুরের অগ্রগতির এ খবরে কুয়াকাটাকে উপজেলা ঘোষণার দাবিও নতুন করে সামনে এসেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসনিক গুরুত্ব, পর্যটন সম্ভাবনা ও অর্থনৈতিক অবদান বিবেচনায় কুয়াকাটার বিষয়টিও দ্রুত বিবেচনায় নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ সময়: ১০:০৫:৪৯ ● ৩০ বার পঠিত
