বুধবার ● ১ জুলাই ২০২৬
বাবার নেতৃত্বে ছেলে হত্যার অভিযোগ, আমতলীতে চাঞ্চল্য
হোম » বরগুনা » বাবার নেতৃত্বে ছেলে হত্যার অভিযোগ, আমতলীতে চাঞ্চল্য
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, আমতলী (বরগুনা)
বরগুনার আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সভাপতি রিপন কাজী (৩৫) হত্যাকাণ্ডে তার বাবা মিজানুর রহমান ওরফে ভুট্টো কাজীর বিরুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের পরিবারের দাবি, বাবার একাধিক বিয়ের প্রতিবাদ এবং পারিবারিক ও রাজনৈতিক বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত পৌনে ১২টার দিকে পটুয়াখালী সদর উপজেলার গগণখা এলাকায় ফারুক ডাক্তারের বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় রিপন কাজীকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে মোস্তফা কাজী ও ফিরোজ কাজী নামে দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আমতলীর গুলিশাখালী ইউনিয়নের কালীবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা রিপন কাজীর সঙ্গে তার বাবা মিজানুর রহমান কাজীর দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। পরিবারের দাবি, মিজানুর রহমানের একাধিক বিয়ে নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। পাশাপাশি রাজনৈতিক আধিপত্য নিয়েও রিপন কাজী ও তার চাচাতো ভাই গুলিশাখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি রিফাত কাজীর মধ্যে বিরোধ ছিল।
নিহতের ছোট ভাই সাব্বির কাজীর অভিযোগ, এসব বিরোধকে কেন্দ্র করে মিজানুর কাজী, তার ভাতিজা রিফাত কাজী এবং তাদের সহযোগীরা রিপন কাজীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২৯ জুন) রাত সোয়া ১১টার দিকে রিপন কাজী ও তার চাচাতো ভাই রাজিব কাজী মোটরসাইকেলে বাজারঘোনা এলাকা থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে গগণখা এলাকায় পৌঁছালে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল তাদের গতিরোধ করে। এ সময় হামলাকারীরা রিপন কাজীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে এবং পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত রাজিব কাজী বলেন, রাসেল কাজী প্রথমে রিপনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এরপর আমরা মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যাই। আমি প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে পাশের খালে ঝাঁপ দিই। পরে দেখি রিপনকে কয়েকজন মিলে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করেছে।
নিহতের ছোট ভাই সাব্বির কাজী বলেন, আমার বাবা একাধিক বিয়ে করেছেন। এ নিয়ে ভাই প্রতিবাদ করায় তার সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি রাজনৈতিক বিরোধও ছিল। পরিকল্পিতভাবে আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।
নিহতের মা আমেনা বেগম বলেন, আমার ছেলেকে যারা হত্যা করেছে তাদের কঠোর শাস্তি চাই।
ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে। পুলিশ বলছে, মোবাইলটি নিহতের বাবা মিজানুর রহমান কাজীর ব্যবহৃত।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দুইজনকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে। পরে তাদের পটুয়াখালী সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনাস্থল পটুয়াখালী সদর উপজেলার মধ্যে হওয়ায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা সেখান থেকেই নেওয়া হচ্ছে।
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্তদের বেশ কয়েকজন এলাকা ছেড়ে গেছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের মরদেহ পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ১৫:০৮:৩২ ● ১৪ বার পঠিত
