মঙ্গলবার ● ৩০ জুন ২০২৬
নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে রাঙ্গাবালীতে মাদ্রাসা ভবনের ঢালাই কাজ বন্ধ
হোম » লিড নিউজ » নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে রাঙ্গাবালীতে মাদ্রাসা ভবনের ঢালাই কাজ বন্ধ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার একাডেমিক ভবন নির্মাণকাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, নির্ধারিত পুরুত্বের চেয়ে কম ফ্লোর ঢালাই এবং প্রকল্প তদারকিতে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পর মঙ্গলবার চলমান ফ্লোর ঢালাইয়ের কাজ বন্ধ করে দেয় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, তিন কক্ষবিশিষ্ট একতলা ভবনের দুই কক্ষের ফ্লোর ঢালাই ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তদারকি না থাকায় নিম্নমানের খোয়া ব্যবহার করে ওই কাজ করা হয়েছে। বাকি একটি কক্ষ ও বারান্দার ঢালাইয়ের প্রস্তুতি চলাকালে মঙ্গলবার দুপুরে মাদ্রাসার সুপার ও শিক্ষকদের হস্তক্ষেপে কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
নির্মাণকাজে নিয়োজিত এক শ্রমিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নির্ধারিত তিন ইঞ্চির পরিবর্তে কম পুরুত্বে ফ্লোর ঢালাই করা হয়েছে।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রায় ১ কোটি ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে তিন কক্ষবিশিষ্ট একতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণের কাজ বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স। এক বছরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পরে প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়।
মাদ্রাসার সুপার আলমগীর হোসেন সাগরকন্যার এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘খোয়া ছিল নিম্নমানের। পানি দিয়ে না ধুয়েই সেই খোয়া দিয়ে ঢালাই দেওয়া হচ্ছিল। আমি বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল। পরে বলে দিয়েছি, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসে নিয়ম অনুযায়ী কাজ নিশ্চিত না করা পর্যন্ত কোনো কাজ করা যাবে না।’
মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি হুমায়ুন ফরাজী অভিযোগ করে বলেন, ‘শুরুতে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী এলেও পরে তাকে আর দেখা যায়নি। কোনো তদারকি ছাড়াই ইচ্ছেমতো কাজ হচ্ছে। এসব কারণে একাধিকবার কাজ বন্ধ হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি। সর্বশেষ ফ্লোর ঢালাইয়ে ব্যবহৃত খোয়া ছিল একেবারেই নিম্নমানের। ঢালাইয়ের মিশ্রণেও প্রয়োজনীয় পরিমাণ উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছিল না।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় প্রতিনিধি নুর জামাল মৃধা। তিনি বলেন, ‘এখানে আমি যে ইট, বালু, সিমেন্ট ও রড দিয়েছি, সবই শতভাগ মানসম্মত। কোনো নিম্নমানের মালামাল ব্যবহার করা হয়নি।’
এ বিষয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের পটুয়াখালী জোনের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) মো. কামরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘ডাস্ট বা রাবিশ দিয়ে তো ঢালাই হয় না। আপনি যেহেতু বিষয়টি জানালেন, আমি এখনই সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘তিন ইঞ্চির চেয়ে কম পুরুত্বে ঢালাই দেওয়ার কথা নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’
বাংলাদেশ সময়: ১৮:২২:১৪ ● ১৪ বার পঠিত
