সোমবার ● ২৯ জুন ২০২৬
রাবনাবাদ সেতু প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে ইউএনও, আগামী মাসে কাজ শুরুর আশা
হোম » লিড নিউজ » রাবনাবাদ সেতু প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে ইউএনও, আগামী মাসে কাজ শুরুর আশা

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, গলাচিপা (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর গলাচিপায় রাবনাবাদ নদীর ওপর নির্মাণাধীন বহুল প্রতীক্ষিত গলাচিপা সেতু প্রকল্পের অগ্রগতি তদারকিতে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো. ইজাজুল হক।
পরিদর্শনকালে তাঁর সঙ্গে ছিলেন গলাচিপা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার কামরুল ইসলাম। এ সময় তারা প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ভূমি অফিস থেকে বরাদ্দ দেওয়া চার একর জমির ব্যবহার, নির্মাণসামগ্রী ও ভারী যন্ত্রপাতি সংরক্ষণের প্রস্তুতি এবং বরাদ্দকৃত জমির বাইরে কোনো সরকারি বা ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি দখল করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখেন।
ইউএনও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম এম বিল্ডার্সের প্রকল্প কার্যালয় এবং নির্মাণশ্রমিকদের অস্থায়ী আবাসন নির্মাণকাজও পরিদর্শন করেন। পরে তিনি প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্টদের কাছে মূল নির্মাণকাজ শুরুর সম্ভাব্য সময় সম্পর্কে জানতে চান।
এ সময় এম এম বিল্ডার্সের রাবনাবাদ সেতু প্রকল্পের প্রজেক্ট ম্যানেজার প্রলয় সরকার বলেন, বর্তমানে প্রকল্পের প্রাথমিক প্রস্তুতিমূলক কাজ চলমান রয়েছে। ক্যাম্প স্থাপন, নির্মাণসামগ্রী সংরক্ষণ, যন্ত্রপাতি স্থাপন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির কাজ আগামী মাসের মধ্যে শেষ হবে। এরপরই পুরোদমে মূল সেতু নির্মাণকাজ শুরু করা হবে বলে আমরা আশা করছি।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) অধীনে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৫২১ কোটি ২৫ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। শুরুতে প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছিল ২০৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। পরে বিস্তারিত নকশা প্রণয়ন, নদীশাসন কার্যক্রম, নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি এবং বিভিন্ন প্রকৌশলগত কাজ যুক্ত হওয়ায় প্রকল্প ব্যয় প্রায় ১৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমান পর্যায়ে পৌঁছেছে।
প্রস্তাবিত সেতুর দৈর্ঘ্য ৮৮২ দশমিক ৮১ মিটার এবং প্রস্থ ১০ দশমিক ২৬ মিটার। নদীর স্বাভাবিক পানির স্তর থেকে সেতুর উচ্চতা হবে ৬০ ফুট, যাতে বড় নৌযান নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে। সেতুটিতে মোট ১৮টি পিলার নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে পাঁচটি থাকবে নদীর মধ্যে এবং ১৩টি দুই তীরে। সেতুর এক প্রান্ত হবে গলাচিপা ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন এলাকায় এবং অপর প্রান্ত হবে হরিদেবপুর উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, রাবনাবাদের মতো প্রশস্ত ও স্রোতস্বিনী নদীর ওপর সেতু নির্মাণে শুধু মূল কাঠামো নির্মাণই যথেষ্ট নয়; নদীতীর ও পিলারকে ভাঙনের হাত থেকে রক্ষায় নদীশাসন কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে প্রকল্পে নদীতীর সংরক্ষণ, পিলারের চারপাশে ক্ষয়রোধ এবং নদীর প্রবাহ নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন সুরক্ষামূলক কাজ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা ব্যয় বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
গলাচিপা সেতু নির্মিত হলে গলাচিপা, দশমিনা ও রাঙ্গাবালী উপজেলার প্রায় ১০ লাখ মানুষের দীর্ঘদিনের ফেরিনির্ভর যাতায়াতের অবসান ঘটবে। পাশাপাশি কৃষি, মৎস্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে। জরুরি সেবা ও দুর্যোগকালীন উদ্ধার কার্যক্রমও আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হলে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্তের সূচনা হবে এবং সেতুটি এ অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
বাংলাদেশ সময়: ১৭:৫৩:৫২ ● ১৫ বার পঠিত
