সোমবার ● ২২ জুন ২০২৬

ভান্ডারিয়ায় লক্ষাধিক চিংড়ির রেণু পোনা জব্দ, জরিমানা ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা

হোম » পিরোজপুর » ভান্ডারিয়ায় লক্ষাধিক চিংড়ির রেণু পোনা জব্দ, জরিমানা ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা
সোমবার ● ২২ জুন ২০২৬


 

ভান্ডারিয়ায় লক্ষাধিক চিংড়ির রেণু পোনা জব্দ, জরিমানা ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, ভান্ডারিয়া (পিরোজপুর)

 

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় অবৈধভাবে গলদা ও বাগদা চিংড়ির রেণু পোনা পাচারকালে ১ লাখ ৩০ হাজার রেণু পোনা জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় তিনজনকে মোট ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

 

জানা গেছে, বরগুনা, পাথরঘাটা ও মঠবাড়িয়াসহ উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকা থেকে অবৈধভাবে সংগ্রহ করা গলদা ও বাগদা চিংড়ির রেণু পোনা দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচারের উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। ওই সিন্ডিকেটের তৎপরতা রোধে ভান্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাসিবুল হাসানের নেতৃত্বে রোববার রাতভর ভান্ডারিয়া ওভারব্রিজ এলাকায় চেকপোস্ট স্থাপন করে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

 

অভিযানে বিভিন্ন যানবাহনে তল্লাশি চালিয়ে অবৈধভাবে পরিবহন করা বিপুল পরিমাণ গলদা ও বাগদা চিংড়ির রেণু পোনা জব্দ করা হয়।

 

অভিযানের একপর্যায়ে রাত ২টার দিকে একটি মোটরসাইকেল তল্লাশি করে মঠবাড়িয়া উপজেলার সাফলেজা এলাকার সাহেব আলীর ছেলে মো. ফিরোজ এবং একই এলাকার আব্দুল হক ফরাজীর ছেলে মো. হানিফ ফরাজীর কাছ থেকে চারটি প্লাস্টিকের ড্রামে রাখা ৩০ হাজার গলদা ও বাগদা চিংড়ির রেণু পোনা জব্দ করা হয়।

 

পরে সোমবার সকাল ৭টার দিকে একটি মাইক্রোবাসে তল্লাশি চালিয়ে পাথরঘাটা উপজেলার চরদোয়ানী তালুকের চর এলাকার আ. মান্নান হাওলাদারের ছেলে মো. নজরুল ইসলামকে আটক করা হয়। এ সময় মাইক্রোবাসে থাকা ১৪টি ছোট-বড় প্লাস্টিকের ড্রাম থেকে আরও ১ লাখ রেণু পোনা জব্দ করা হয়।

 

অবৈধভাবে চিংড়ির রেণু পোনা পরিবহনের দায়ে মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন, ১৯৮৫-এর ৮(১)(এ) ধারার অপরাধে এবং সংশ্লিষ্ট আইনের বিধান অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। আদালত মো. নজরুল ইসলামকে ১ লাখ টাকা এবং মো. ফিরোজ ও মো. হানিফ ফরাজীকে ১৫ হাজার টাকা করে মোট ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

 

অভিযান শেষে জব্দ করা ১ লাখ ৩০ হাজার রেণু পোনা ভান্ডারিয়া উপজেলার পোনা নদীতে অবমুক্ত করা হয়, যাতে প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাসিবুল হাসান বলেন, চিংড়ির রেণু পোনা নির্বিচারে আহরণ ও পাচারের ফলে নদ-নদীর প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মৎস্যসম্পদ রক্ষা এবং জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের স্বার্থে এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১২:৪৮:৫৪ ● ৩১ বার পঠিত