বুধবার ● ১৭ জুন ২০২৬
বরগুনায় ১৭ দিনে ২১ মরদেহ উদ্ধার, ৩ হত্যার ঘটনায় অগ্রগতি-পুলিশ সুপার
হোম » বরগুনা » বরগুনায় ১৭ দিনে ২১ মরদেহ উদ্ধার, ৩ হত্যার ঘটনায় অগ্রগতি-পুলিশ সুপার![]()
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা
বরগুনা জেলায় চলতি জুন মাসের ১৭ দিনে বিভিন্ন ঘটনায় ২১টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ। এ সময়ে ৩টি পৃথক হত্যাকাণ্ডে ৩ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মো: কুদরত ই খুদা।
বুধবার (১৬ জুন) দুপুরে তার কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব তথ্য জানান। এ সময় জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ সুপার জানান, ৮ জুন শামিম হত্যাকাণ্ডে তার স্ত্রী বাদী হয়ে বরগুনা সদর থানায় মামলা করেন। এ ঘটনায় ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
১৩ জুন পাথরঘাটা পৌর এলাকার পানি উন্নয়ন বোর্ডের দক্ষিণ পাশে মিজানুর রহমানের মরদেহ উদ্ধার হয়। এ ঘটনায় তার ভাই মো. আবুল কালাম বাদী হয়ে পাথরঘাটা থানা-এ হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় দুইজন নামীয় আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
তিনি আরও জানান, মাদক ও সন্ত্রাস সংশ্লিষ্ট একাধিক মামলার আসামি ইব্রাহিম হোসেন ওরফে কালু (বস্তি কালু) একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলেছিল। ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনার পর স্থানীয়দের গণপিটুনিতে কালুর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
পুলিশ সুপার বলেন, জুন মাসে ৭টি পৃথক ঘটনায় ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট, বজ্রপাত, দুর্ঘটনা ও অন্যান্য কারণ উল্লেখযোগ্য।
এর মধ্যে ১০ জুন ঢলুয়া গ্রামে নুপুর বেগম (৩৫) ও তার ছেলে শাহাজাদা (২) পুকুরে গোসল করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। ৭ জুন পরিমল চন্দ্র (৫০) বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে এবং ৫ জুন মো. মহিউদ্দিন (৪০) বজ্রপাতে নিহত হন। একই দিনে মো. ওলিউল্লাহ (৪৫) নদীতে মাছ ধরার সময় বজ্রপাতে মারা যান।
৩ জুন আমতলী এলাকায় নির্মাণাধীন ভবনের পানির ট্যাংক পরিষ্কারের সময় গ্যাসে অক্সিজেন সংকটে জাহিদ (৩৫) ও জাফর (৫৫) নিহত হন। ৮ জুন মো. আবু তালাহ (২) নিজ বাড়ির পুকুরে পড়ে মারা যায়।
১০ জুন বরগুনা সদর হাসপাতাল এলাকায় ডাস্টবিন থেকে ৩ মাস বয়সী একটি ভ্রূণ উদ্ধার করে পুলিশ।
এছাড়া আত্মহত্যাজনিত ৭টি ঘটনায় ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।
৬ জুন বরগুনা জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর দুটি কক্ষ থেকে ইতি রানী (৩৪) এবং তার দুই মেয়ে অনুরাধা বিশ্বাস (৩) ও আরাধা বিশ্বাস (১২)-এর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
৫ জুন থেকে ১৩ জুনের মধ্যে ছালেহা বেগম (৯৩) বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান বরগুনা সদর এলাকায়। এছাড়া ১৩ জুন মোসা. রুবি আক্তার কনা (৩৪), ১২ জুন বামনা এলাকার আবির হোসেন (১৮), ১৩ জুন বেতাগী এলাকার প্রনিতা (২১), ৭ জুন তালতলী এলাকার মো. মামুন খান (৩০) এবং ১৪ জুন তালতলী থানা এলাকায় কর্মরত কনস্টেবল মো. ফারুক গাজীর মৃত্যু হয়।
পুলিশ সুপার মো: কুদরত ই খুদা বলেন, প্রতিটি মৃত্যুর ঘটনা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এমএইচকে/এমআর
বাংলাদেশ সময়: ১৭:০০:১৫ ● ৪২ বার পঠিত
