বৃহস্পতিবার ● ১১ জুন ২০২৬
চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগে যুবদল নেতার মৃত্যু, হাসপাতালে সংঘর্ষ
হোম » লিড নিউজ » চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগে যুবদল নেতার মৃত্যু, হাসপাতালে সংঘর্ষ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরিশাল
বরিশাল নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগে যুবদল নেতা মনির খান (৩৮)-এর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্বজনদের সঙ্গে চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন।
বুধবার দুপুরে নগরীর বাজার রোড এলাকার কেএমসি হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মনির খান বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের উত্তর বাহেরচর গ্রামের আব্দুল হক খানের ছেলে এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর মঙ্গলবার সকালে মনির খানকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে নিউরো মেডিসিন বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. অমিতাভ সরকারের পরামর্শে একই দিন বিকেলে তাকে কেএমসি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
মনির খানের চাচাতো ভাই ফয়সাল রিয়াদ মিরন অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল ছিল। তবে বুধবার সকাল থেকে অবস্থার অবনতি হতে থাকে। চিকিৎসকদের একাধিকবার জানানো হলেও তারা যথাসময়ে সাড়া দেননি।
চাচাতো বোন সাথী আক্তার বলেন, রোগীর শ্বাসকষ্ট শুরু হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. সুবেন্দু হালদার শিবুকে বিষয়টি জানানো হয়। কিন্তু তিনি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা না নিয়ে পরে রোগীর কাছে যান এবং ফিডিং টিউব লাগানোর নির্দেশ দেন। টিউব লাগানোর কিছুক্ষণ পর শ্বাসকষ্ট আরও বেড়ে যায়। চিকিৎসককে বিষয়টি জানানো হলেও তিনি গুরুত্ব দেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। সাথী আক্তারের দাবি, পরে চিকিৎসক রোগীর কক্ষ থেকে স্বজনদের বের করে দেন এবং কিছু সময় পর মনির খানের মৃত্যুর খবর জানান। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মচারীরা তাদের মারধর করেছেন।
অন্যদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, রোগীর মৃত্যুর পর উত্তেজিত স্বজনরা দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. সুবেন্দু হালদার শিবুর ওপর হামলা চালিয়ে চেয়ার দিয়ে আঘাত করেন, এতে তিনি আহত হন।
চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে ডা. সুবেন্দু হালদার শিবু বলেন, রোগীর চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা করা হয়নি। স্বজনদের অভিযোগ ভিত্তিহীন। রোগীর মৃত্যুর পর উত্তেজিত হয়ে তারা আমার ওপর হামলা চালিয়েছেন।
খবর পেয়ে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) লুৎফুর রহমান বলেন, রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে এবং উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দেয়নি।
বাংলাদেশ সময়: ২১:৫৮:১৫ ● ২৭ বার পঠিত
