সোমবার ● ৮ জুন ২০২৬
কুয়াকাটায় ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত
হোম » জেলে-মৎস্য » কুয়াকাটায় ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় চলতি অর্থবছরে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। পটুয়াখালী জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের আয়োজনে সোমবার (৮ জুন) দুপুরে কুয়াকাটার একটি আবাসিক হোটেলের হলরুমে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে মহিপুর-আলীপুর ও কুয়াকাটা মৎস্য বন্দর এলাকার দেড় শতাধিক জেলে, আড়তদার ও মৎস্যজীবীরা অংশ নেন।
পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজয় কুমার নন্দীর সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তর বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক মো. কামরুল হাসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বরিশাল উপ-পরিচালক মো. মহসিন, দুমকি ও মির্জাগঞ্জ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমান, কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন আনু, সাধারণ সম্পাদক হোসাইন আমির প্রমুখ। সেমিনার সঞ্চালনা করেন কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা।
সেমিনারে বাংলাদেশ মৎস্য অধিদপ্তরের ৫ বছর মেয়াদি ‘ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প’-এর আওতায় গৃহীত কার্যক্রম সম্পর্কে জেলে ও মৎস্যজীবীদের অবহিত করা হয়।
এ সময় জেলে সমিতি ও আড়তদার সমিতির নেতা নিজাম শেখ, কামাল হোসেন, সোবহান মাঝি, নুরজামাল, কুয়াকাটা পৌরসভার কাউন্সিলর সাবের আহমেদসহ অংশগ্রহণকারীরা সমুদ্রে ঝুঁকি মোকাবিলায় ঝুঁকি ভাতা প্রদান, কোস্টাল রেডিও স্থাপন, উদ্ধার যান সরবরাহ, শতভাগ প্রণোদনা নিশ্চিতকরণসহ বিভিন্ন দাবি জানান। কর্মকর্তারা জানান, এসব দাবি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে উপস্থাপন করা হয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. কামরুল হাসান বলেন, জেলেরা সমুদ্রে মৎস্য আহরণ ও বিপণনের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তাই সরকার ইলিশ সম্পদ উন্নয়নের পাশাপাশি জেলেদের জীবনমান উন্নয়নে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
তিনি আরও বলেন, ৫ বছর মেয়াদি প্রকল্পের আওতায় সমুদ্রে মাছ শিকারে গিয়ে নিখোঁজ বা নিহত জেলে পরিবারের জন্য ৫০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অবরোধকালীন প্রণোদনা, অসচ্ছল জেলেদের গরু বিতরণ, জাল ও মৎস্য সরঞ্জাম প্রদান করা হয়েছে। অবরোধকালীন সময়ে জেলেদের শতভাগ প্রণোদনার আওতায় আনতে সরকার কাজ করছে।
সেমিনারে বক্তারা জানান, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে ৫ লাখ ৭১ হাজার টন ইলিশ আহরণ হয়েছে, যা সরকারের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কম। তবে ইলিশ রপ্তানির মাধ্যমে বছরে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা আয় হচ্ছে, যা দেশের জিডিপিতে প্রায় ১ শতাংশ অবদান রাখছে।
বক্তারা আরও বলেন, ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে মৎস্য খাতে বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। এ ক্ষেত্রে জেলেদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তারা জাটকা নিধন বন্ধ এবং ছোট ফাঁসের জাল ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে পরিহারের আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ সময়: ১৯:৫৯:৩৪ ● ১৬ বার পঠিত
