শনিবার ● ৬ জুন ২০২৬

মঠবাড়িয়ায় ডাকাতি মামলার আসামি স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রকাশ্যে ঘোরাফেরার অভিযোগ

হোম » পিরোজপুর » মঠবাড়িয়ায় ডাকাতি মামলার আসামি স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রকাশ্যে ঘোরাফেরার অভিযোগ
শনিবার ● ৬ জুন ২০২৬


 

মঠবাড়িয়ায় ডাকাতি মামলার আসামি স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রকাশ্যে ঘোরাফেরার অভিযোগ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, পিরোজপুর

 

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার হলতা-গুলীশাখালী ইউনিয়নের হলতা মাতুব্বর বাড়ির সৌদি প্রবাসী মুরাদ হোসেনের বাড়িতে সংঘটিত আলোচিত ডাকাতির ঘটনায় মামলার আসামি এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত মৃত্যুঞ্জয় মঠবাড়িয়া পৌর শহরের স্বর্ণ প্রভা জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী এবং মিরুখালী বাজার এলাকার নির্মল কর্মকারের ছেলে।

 

মামলা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৮ এপ্রিল গভীর রাতে প্রবাসী মুরাদ হোসেনের বাড়িতে সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এ পর্যন্ত আলামিন ওরফে কাদেরসহ ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া ডাকাত আলামিন (কাদের) আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

 

জবানবন্দিতে তিনি বলেন, গত এপ্রিল মাসের শেষের দিকে বাচ্চু হাওলাদার একটি স্বর্ণের চেইন, দুটি স্বর্ণের আংটি ও এক জোড়া স্বর্ণের কানের দুল বিক্রি করতে আসে। তখন বাচ্চু হাওলাদারের সঙ্গে ইলিয়াস, রাজু ও মিরাজ উপস্থিত ছিল। বাচ্চু আমাকে বলে, স্বর্ণগুলো জুয়া খেলার। তখন আমি কম দামে স্বর্ণগুলো তাদের কাছ থেকে কিনে নিই। পরে আমি মঠবাড়িয়া বাজারে মৃত্যুঞ্জয়ের কাছে কম দামে বিক্রি করে দিই। কিছুদিন পর বাচ্চু জানায়, স্বর্ণগুলো ডাকাতির মালামাল ছিল। এরপর আমি আত্মগোপনে চলে যাই। পরে জানতে পারি, রাজু, বাচ্চু, ইলিয়াস ও মিরাজ ডাকাতদলের সদস্য।

 

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আলোচিত ওই ডাকাতির অন্যতম অভিযুক্ত ইলিয়াস ও কাদের। ইলিয়াস দীর্ঘদিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হয়েছেন। অন্যদিকে কাদের এখনও কারাগারে রয়েছেন। ডাকাতির মালামাল কোথায় বিক্রি হয়েছে, সে বিষয়ে পুনরায় নিশ্চিত হওয়ার জন্য গত ২৪ মে রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। তবে পূর্বে জবানবন্দি প্রদান করায় আদালত তার রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করেন। তদন্তে পূর্বের জবানবন্দি বহাল থাকায় মৃত্যুঞ্জয় মামলার আসামি হলেও তিনি প্রকাশ্যে ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন ডাকাতরা প্রবাসীর বাড়ির গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে পিস্তল, রামদাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রের মুখে যৌথ পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে। পরিবারের কয়েকজন সদস্যের হাত-পা গামছা ও ওড়না দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। ডাকাতরা আলমারিসহ ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র তছনছ করে নগদ অর্থ, ২৯ ভরি স্বর্ণালংকার, দুটি স্মার্টফোন ও একটি ল্যাপটপসহ প্রায় ৪৫ লাখ ২০ হাজার টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

 

এ ঘটনায় গত বছরের ১০ এপ্রিল মুরাদ হোসেনের ছোট ভাই গিয়াস উদ্দিন বাদী হয়ে মঠবাড়িয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শহিদুল ইসলাম সম্প্রতি বদলি হওয়ায় বর্তমানে এসআই জাফরুল্লাহ মামলাটির তদন্ত করছেন।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ডাকাতির মালামাল কেউ জেনে-শুনে ক্রয় করে থাকলে দণ্ডবিধির ৪১২ ধারায় তাকেও ডাকাত দলের সহযোগী হিসেবে গণ্য করা হবে। সেক্ষেত্রে তাকে মামলার আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করতে হবে।

 

মঠবাড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পার্থ চক্রবর্তী বলেন, মৃত্যুঞ্জয় জুয়া খেলার স্বর্ণ কিনেছেন, নাকি ডাকাতির মালামাল কিনেছেন- বিষয়টি তদন্তে স্পষ্ট হবে। খুব শিগগিরই আদালতে এ মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১২:৪৬:৩৫ ● ৩১ বার পঠিত