শুক্রবার ● ৫ জুন ২০২৬
পরিবেশ দিবসের সমাবেশে বক্তারা ‘রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র পশুর নদীর জলজপ্রাণী ও সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস করছে’
হোম » খুলনা » পরিবেশ দিবসের সমাবেশে বক্তারা ‘রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র পশুর নদীর জলজপ্রাণী ও সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস করছে’

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বাগেরহাট
সুন্দরবনসংলগ্ন রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র পশুর নদীর জলজপ্রাণী ও সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্রের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতারা। তারা বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি শুধু শক্তির উৎস নয়, বরং এটি সামাজিক পরিবর্তন, অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি এবং জলবায়ু-সহনশীল ভবিষ্যৎ নির্মাণের ভিত্তি। আমদানি-নির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর নীতির কারণে দেশে জ্বালানি সংকট তৈরি হচ্ছে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে জাতীয় বাজেটে সবুজ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎস এবং সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশে কর রেয়াত ও প্রণোদনা দেওয়ার দাবি জানান তারা।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে শুক্রবার (৫ জুন) সকালে বাগেরহাটের মোংলায় মানববন্ধন ও সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন।
‘ইনস্পায়ার্ড বাই ন্যাচার, ফর ক্লাইমেট, ফর আওয়ার ফিউচার’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত কর্মসূচির আয়োজন করে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ, সুন্দরবন রক্ষায় আমরা এবং পশুর রিভার ওয়াটারকিপার।
বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান জলবায়ু সংকট মোকাবিলা, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত ও ন্যায্য রূপান্তরের দাবিতে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সুন্দরবন রক্ষায় আমরা’র সমন্বয়কারী ও পশুর রিভার ওয়াটারকিপার মো. নূর আলম শেখ।
এতে বক্তব্য দেন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)-এর নেতা অ্যাডভোকেট সার্বভৌম রায়, মোংলা উপজেলা জেলে সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ হাওলাদার, ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের কমলা সরকার, পশুর রিভার ওয়াটারকিপারের স্বেচ্ছাসেবক নাজমুল হক, রাকেশ সানা, অসীমা মণ্ডল ও মেহেদী হাসান।
সভাপতির বক্তব্যে মো. নূর আলম শেখ বলেন, সুন্দরবন বিনাশী রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র পশুর নদীর জলজপ্রাণী ও সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস করছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কমাতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য সবুজ পৃথিবী গড়ে তুলতে জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির কোনো বিকল্প নেই।
আব্দুর রশিদ হাওলাদার বলেন, দূষণ বৃদ্ধির কারণে পশুর নদী ও সুন্দরবনে মাছের সংকট দেখা দিয়েছে। সুন্দরবনের প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষায় নদীদূষণ প্রতিরোধ করতে হবে।
ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের কমলা সরকার বলেন, একটি ন্যায্য ও টেকসই জ্বালানি রূপান্তরের জন্য ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সম্প্রসারণ এবং শিল্পখাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার আরও জোরদার করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে সরকারকে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে।
বাংলাদেশ সময়: ১১:২৪:৩০ ● ২৬ বার পঠিত
