মঙ্গলবার ● ২ জুন ২০২৬

রাঙ্গাবালীতে ঝুঁকিপূর্ণ লোহার সেতু ভেঙে খালে, পথচারী আহত

হোম » লিড নিউজ » রাঙ্গাবালীতে ঝুঁকিপূর্ণ লোহার সেতু ভেঙে খালে, পথচারী আহত
মঙ্গলবার ● ২ জুন ২০২৬


 

রাঙ্গাবালীতে ঝুঁকিপূর্ণ লোহার সেতু ভেঙে খালে, পথচারী আহত

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী)

 

রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা লোহার (আয়রন) একটি সেতু ভেঙে খালে পড়ে গেছে। রোববার দুপুরে সেতুটি হঠাৎ ভেঙে পড়ে।

 

স্থানীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটি ওই ইউনিয়নের মধ্য চরমোন্তাজ ও দক্ষিণ চরমোন্তাজ গ্রামের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া চরমোন্তাজ স্লুইস খালের ওপর নির্মিত ছিল। সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় দুই গ্রামের মানুষের স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে এবং জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

 

ঘটনার সময় সেতুর ওপর থাকা পথচারী ইব্রাহিম (৩৫) আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও বাধ্য হয়ে এলাকাবাসী এটি ব্যবহার করছিলেন। দুর্ঘটনা এড়াতে তারা সেতুর বিভিন্ন অংশে রশি বেঁধে চলাচলের ব্যবস্থা করেছিলেন।

 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটি বহুদিন আগে নির্মিত হলেও দীর্ঘ সময় ধরে সংস্কার বা পুনর্নির্মাণে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

 

সেতু ভেঙে যাওয়ায় দুই গ্রামের শিক্ষার্থী, কৃষক ও রোগীদের চলাচলে চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।

 

মধ্য চরমোন্তাজ গ্রামের জাহাঙ্গীর মাতুব্বর বলেন, অনেক বছর ধরে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। শেষ পর্যন্ত সেতুটি ভেঙেই পড়ল। এখন সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের খুব কষ্ট হবে। তাই এখানে দ্রুত একটি সেতু নির্মাণের দাবি সরকারের কাছে।

 

দক্ষিণ চরমোন্তাজ গ্রামের মামুন বলেন, এই সেতু না থাকলে আমাদের অনেক কষ্ট হয়। এখন বাজার, মসজিদ বা জরুরি কাজে যেতে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরের অন্য সেতু ব্যবহার করতে হবে। এতে সময় ও খরচ দুটোই বাড়বে।

 

একই গ্রামের কুদ্দুস মিয়া বলেন, দুই গ্রামের মানুষের জন্য এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ সেতু। শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগীসহ সবাই এই পথ ব্যবহার করে। দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণ না হলে মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে।

 

এলাকাবাসী জানান, সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় দুই গ্রামের মানুষের স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, কৃষক ও অসুস্থ রোগীদের চলাচলে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে।

 

চরমোন্তাজ ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক আবু ইউসুফ মো. সরওয়ার হোসেন বলেন, একটি ঝুঁকিপূর্ণ সেতু ভেঙে পড়ার বিষয়টি আমি শুনেছি। ভেঙে পড়া সেতুটি কোন দপ্তরের নির্মিত তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

 

এ বিষয়ে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা অজিত চন্দ্র দেবনাথের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা জানান, সেতুটি তাদের দপ্তরের নয়।

বাংলাদেশ সময়: ২২:২১:০৩ ● ২৩ বার পঠিত