মঙ্গলবার ● ২ জুন ২০২৬
যাত্রীরা জিম্মি হয়ে পড়েছে কলাপাড়ার তেগাছিয়া খেয়ায় ৬ বছরে অতিরিক্ত আদায় ৪৩ লাখ টাকা
হোম » লিড নিউজ » যাত্রীরা জিম্মি হয়ে পড়েছে কলাপাড়ার তেগাছিয়া খেয়ায় ৬ বছরে অতিরিক্ত আদায় ৪৩ লাখ টাকা

মেজবাহউদ্দিন মান্নু, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) থেকে
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সোনাতলা নদীর তেগাছিয়া খেয়াঘাটে যাত্রীদের কাছ থেকে বছরের পর বছর অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে জনপ্রতি পাঁচ টাকা বেশি আদায় করে গত ছয় বছরে অন্তত ৪৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ থাকলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শুরু হওয়া এই অনিয়ম এখনও বন্ধ হয়নি। খেয়াঘাটটি নিয়ন্ত্রণকারী একটি প্রভাবশালী চক্র নির্ধারিত পাঁচ টাকার পরিবর্তে জনপ্রতি ১০ টাকা করে আদায় করছে। ঈদ-পার্বণ কিংবা সন্ধ্যার পর অনেক ক্ষেত্রে ২০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া নেওয়া হয়। এছাড়া খেয়া পারাপারে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করানো এবং প্রতিবাদ করলে দুর্ব্যবহারেরও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, খেয়াঘাটে অনিয়মের প্রতিবাদ করায় গত বছর এক শিক্ষককে মারধরের ঘটনাও ঘটে। খেয়াটি স্থানীয় গোলবুনিয়া গ্রামের গাজীবাড়ির একটি চক্র নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
খেয়ার মাঝিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে অন্তত ৪০০ যাত্রী এ ঘাট ব্যবহার করেন। জনপ্রতি পাঁচ টাকা অতিরিক্ত আদায় হিসেবে দৈনিক প্রায় দুই হাজার টাকা, মাসে ৬০ হাজার টাকা এবং বছরে অন্তত সাত লাখ ২০ হাজার টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে। এভাবে ছয় বছরে আদায়ের পরিমাণ ৪৩ লাখ টাকারও বেশি বলে দাবি স্থানীয়দের।
ঈদুল আজহার সময় খেয়ার মাঝি ও ভাড়া আদায়কারী রাকিবুল গাজী যাত্রীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে বলেন, আগেও ১০ টাকা নেওয়া হইছে, আমরাও ১০ টাকা নিচ্ছি। এর বাইরে কোনো কথা নেই।
স্থানীয় বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম বলেন, সোনাতলা নদীতে ফুলবুনিয়া, রাজ্জাক সিকদার বাড়ি, বাইনতলা ও আরামগঞ্জসহ চারটি খেয়াঘাট রয়েছে। সবখানেই যাত্রীপ্রতি পাঁচ টাকা ভাড়া নেওয়া হয়। অথচ তেগাছিয়া খেয়াঘাটে নেওয়া হচ্ছে ১০ টাকা। একই উপজেলার অন্য কোনো খেয়াঘাটে এমন অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হয় না।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তেগাছিয়া খেয়াঘাটটি চলতি বছরে ইজারা নিয়েছেন মো. হারেছ গাজীর ছেলে মো. দেলোয়ার হোসেন। কলাপাড়া উপজেলায় এ বছর মোট ২০টি খেয়াঘাট ইজারা দেওয়া হয়েছে। সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অধিকাংশ খেয়াঘাটেই যাত্রীপ্রতি পাঁচ টাকা ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউছার হামিদ বলেন, বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে খতিয়ে দেখা হবে। প্রতিটি খেয়াঘাটে যাত্রী পারাপারের নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা (রেট চার্ট) টানানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ১৪:২৭:০৭ ● ৩২ বার পঠিত
