শুক্রবার ● ১৫ মে ২০২৬

গ্যাসলাইন বিস্ফোরণে নিশ্চিহ্ন একটি পরিবার, শোকে স্তব্ধ পটুয়াখালীর বাউফল

হোম » পটুয়াখালী » গ্যাসলাইন বিস্ফোরণে নিশ্চিহ্ন একটি পরিবার, শোকে স্তব্ধ পটুয়াখালীর বাউফল
শুক্রবার ● ১৫ মে ২০২৬


 

 

গ্যাসলাইন বিস্ফোরণে নিশ্চিহ্ন একটি পরিবার, শোকে স্তব্ধ পটুয়াখালীর বাউফল

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, পটুয়াখালী

কোরবানির ঈদে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে গ্রামের নতুন ঘরে ফেরার স্বপ্ন ছিল মো. কামালের। প্রায় ৩০ বছরের কঠোর পরিশ্রমে নারায়ণগঞ্জে ভ্রাম্যমাণভাবে সবজি বিক্রি করে তিনি গড়ে তুলেছিলেন গ্রামের সেই স্বপ্নের বাড়ি। কিন্তু ঈদের আনন্দের আগেই ভয়াবহ গ্যাসলাইন বিস্ফোরণে নিভে গেল পুরো পরিবার।

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়নের উত্তর কনকদিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. কামাল (৪৫), তার স্ত্রী সায়মা বেগম (৩৫), দুই মেয়ে মুন্নি (১০) ও কথা (৪), এবং একমাত্র ছেলে মুন্না (৭) একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ পুরো এলাকা।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন কামাল। জীবিকার তাগিদে ভ্রাম্যমাণভাবে সবজি বিক্রি করতেন তিনি। স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।

গত রবিবার ফতুল্লার একটি বাসায় গ্যাসলাইনের লিকেজ থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে দগ্ধ হন কামালসহ পরিবারের পাঁচ সদস্য। পরে তাদের ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রথমে মারা যান কামাল। এরপর একে একে মারা যায় তার তিন সন্তান এবং সর্বশেষ শুক্রবার সকালে মৃত্যুবরণ করেন স্ত্রী সায়মা বেগম।

এ ঘটনায় উত্তর কনকদিয়া গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। যে বাড়িতে ঈদের আনন্দে ফেরার কথা ছিল, সেই বাড়িতেই এখন ফিরছে একে একে পাঁচটি মরদেহ।

স্থানীয়দের ভাষ্য, কামাল ছিলেন অত্যন্ত পরিশ্রমী ও শান্ত স্বভাবের মানুষ। অল্প আয়ে পরিবারকে ভালো রাখতে নিরলস সংগ্রাম করেছেন তিনি। গ্রামের বাড়িতে নিজের একটি পাকা ঘর নির্মাণ ছিল তার বহুদিনের স্বপ্ন।

শনিবার সকালে কামালের কবরের পাশেই স্ত্রী ও সন্তানদের দাফন করা হবে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

বাংলাদেশ সময়: ২০:১৫:৫৯ ● ২৭ বার পঠিত