শুক্রবার ● ১৫ মে ২০২৬

কুয়াকাটা সৈকতে ভাঙা কংক্রিট এখন মরণফাঁদ, অপসারণের দাবি

হোম » কুয়াকাটা » কুয়াকাটা সৈকতে ভাঙা কংক্রিট এখন মরণফাঁদ, অপসারণের দাবি
শুক্রবার ● ১৫ মে ২০২৬


 

 

 

কুয়াকাটা সৈকতে ভাঙা কংক্রিট এখন মরণফাঁদ, অপসারণের দাবি

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী)

 

সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের লীলাভূমি এবং দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত এখন পরিণত হয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায়। সমুদ্রে বিলীন হওয়া বিভিন্ন স্থাপনার ভাঙা কংক্রিট, লোহার অংশ ও অবকাঠামোর ধ্বংসাবশেষ সৈকতের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। জোয়ারের সময় এসব কংক্রিট পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন পর্যটক, স্থানীয় বাসিন্দা ও জেলেরা। এলাকাবাসীর দাবি, ইতোমধ্যে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি জমিতে অবৈধভাবে নির্মিত সিকদার রিসোর্টের ‘বিচ ক্লাব’ নামের একটি স্থাপনা ২০২২ সালে জেলা প্রশাসনের অভিযানে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। তবে ওই স্থাপনার ভাঙা কংক্রিট এখনো অপসারণ করা হয়নি।

২০০৫ সালে জিরো পয়েন্ট থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার পূর্বে ঝাউবন এলাকায় ১ হাজার ৬১৩ হেক্টর জায়গাজুড়ে নির্মাণ করা হয় কুয়াকাটা ইকোপার্ক। পরে ২০১০ সালের ২৪ অক্টোবর এটিকে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিনের উপকূলীয় ভাঙনে উদ্যানটির বড় অংশ সমুদ্রগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বিলীন হওয়া স্থাপনাগুলোর টয়লেট, রান্নাঘর, টিউবওয়েল, গোলঘর, বৈদ্যুতিক খুঁটি ও ফটকের কংক্রিট অংশ এখনো সৈকত ও সমুদ্রের ভেতরে ছড়িয়ে রয়েছে। অনেক স্থানে এসব ধ্বংসাবশেষ বালুর নিচে চাপা পড়ে থাকলেও কিছু অংশ ওপরে উঠে থাকায় সহজে চোখে পড়ে না।

স্থানীয় জেলে রহিম হাওলাদার সাগরকন্যাকে বলেন, জোয়ারের সময় ভাঙা অংশগুলো দেখা যায় না। জাল টানতে গিয়ে আঘাত পাই। প্রায়ই জাল ছিঁড়ে যায়, হাত-পাও কেটে যায়। এগুলো দ্রুত সরিয়ে ফেলা উচিত।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. বেলাল হোসেন বলেন, জোয়ারের সময় পুরো বিচ পানির নিচে ডুবে থাকে। তখন কোথায় কী আছে বোঝা যায় না। দুই বছর আগে মো. ইউনুস নামে এক মোটরসাইকেলচালক ভোরে পর্যটক আনতে গিয়ে কংক্রিটে ধাক্কা খেয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। আমরা দ্রুত এসব অপসারণ চাই।

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক গোলাম রাব্বানী বলেন, আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে গোসলে নেমেছিলাম। পানির নিচে থাকা কংক্রিটে একজন মাথায় আঘাত পেয়েছে। পুরো ভ্রমণের আনন্দটাই নষ্ট হয়ে গেছে। এমন ঝুঁকি থাকলে মানুষ এখানে আসতে ভয় পাবে।

উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন রাজু বলেন, সমুদ্রভাঙনে বিলীন হওয়া স্থাপনাগুলোর কংক্রিট ধীরে ধীরে বালুর নিচে চাপা পড়লেও পুরোপুরি হারিয়ে যায় না। ভবিষ্যতে এগুলো আরও বিপজ্জনক ‘ট্র্যাপে’ পরিণত হতে পারে। এটি শুধু জননিরাপত্তার জন্য নয়, পরিবেশের জন্যও হুমকি।

বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট পুলিশের কুয়াকাটা রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদেক বলেন, সৈকতে পড়ে থাকা পরিত্যক্ত কংক্রিটগুলো পর্যটক ও স্থানীয়দের চলাচলে ঝুঁকি তৈরি করছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কাউসার হামিদ জানান, সৈকতে পড়ে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ কংক্রিট অপসারণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত অপসারণের জন্য ইতোমধ্যে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৪:৫৪:২৩ ● ২৬ বার পঠিত