বৃহস্পতিবার ● ১৪ মে ২০২৬

গলাচিপায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ফিডিং খাবারে অনিয়মের অভিযোগ

হোম » লিড নিউজ » গলাচিপায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ফিডিং খাবারে অনিয়মের অভিযোগ
বৃহস্পতিবার ● ১৪ মে ২০২৬


 

গলাচিপায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ফিডিং খাবারে অনিয়মের অভিযোগ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, গলাচিপা (পটুয়াখালী)

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহকৃত দুপুরের ফিডিং খাবারের গুণগতমান নিয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

 

অভিযোগ রয়েছে, শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিতকল্পে বিতরণকৃত খাবারের মধ্যে মানহীন ও পচা-কাঁচা কলা, নিম্নমানের দুর্গন্ধযুক্ত রুটি এবং মেয়াদোত্তীর্ণ দুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত হওয়ার পরিবর্তে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা।

 

উপজেলার উপকূলীয় বিচ্ছিন্ন ইউনিয়ন চরবিশ্বাস ও চরকাজলসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের একাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এসব অনিয়মের ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

চরবিশ্বাস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. নাজমুল হাসান, মো. রাকিব, রোকেয়া আক্তার ও আয়শা মণি এবং মধ্য চরকাজল, উত্তর বড় চরকাজল ও ছোট চরকাজল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আফজাল হোসেন, ফাতেমা আক্তার, মো. ইব্রাহিম, মিলন ও রাকিব জানায়, স্কুলে কলা আর রুটি দেওয়া হয়। কিন্তু অনেক সময় কলা কাঁচা থাকে, খাওয়া যায় না। আবার রুটিতে গন্ধ থাকে। কেউ খায়, কেউ বাড়িতে নিয়ে যায়।

 

এ বিষয়ে অভিভাবক মো. জাকির হাওলাদার, আলমগীর হোসেন, জলিল মাঝি ও ইউসুফ মোল্লাসহ অনেকেই অভিযোগ করে সাগরকন্যার এ প্রতিবেদককে বলেন, শিশুদের জন্য মানসম্মত খাবার দেওয়ার কথা থাকলেও অনেক স্কুলে পচা-কাঁচা কলা, মেয়াদোত্তীর্ণ দুধ ও নিম্নমানের রুটি দেওয়া হচ্ছে। এতে শিশুদের স্বাস্থ্যগত সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগেই প্রশাসনের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

 

তারা আরও বলেন, খাবার দিলে যেন ভালো ও নিরাপদ খাবার দেওয়া হয়, তা না হলে এ ধরনের খাবার দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

 

এ বিষয়ে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মেজবাহ উদ্দিন সাগরকন্যাকে বলেন, মানহীন ও পচা, নিম্নমানের দুর্গন্ধযুক্ত রুটি কিংবা মেয়াদোত্তীর্ণ দুধ খেলে শিশুদের ডায়রিয়া, আমাশা, টাইফয়েডসহ নানা ধরনের পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

 

এ প্রসঙ্গে গলাচিপা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. গোলাম সগীর বলেন, শিশুদের সুস্বাস্থ্যের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে মানহীন খাবার সরবরাহের কোনো সুযোগ নেই। কিছু বিদ্যালয়ে খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১২:১২:০৮ ● ১১ বার পঠিত