বুধবার ● ১৩ মে ২০২৬
রাঙ্গাবালীতে বেড়িবাঁধ সংস্কারে উপড়ে ফেলা হলো ৫০০ গাছ, ক্ষোভ উপকারভোগীদের
হোম » লিড নিউজ » রাঙ্গাবালীতে বেড়িবাঁধ সংস্কারে উপড়ে ফেলা হলো ৫০০ গাছ, ক্ষোভ উপকারভোগীদের

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার মৌডুবী ইউনিয়নের কেউর হাওলা ও ভাঙ্গারখাল এলাকায় বেড়িবাঁধ ও সড়ক সংস্কারকাজের সময় প্রায় ২০ বছর আগে রোপণ করা বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ৫০০ গাছ উপড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এতে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। ক্ষতির মুখে পড়েছে বন বিভাগের সবুজ বনায়ন প্রকল্প এবং আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয় উপকারভোগীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বেড়িবাঁধ সংস্কারের সময় নিয়ম না মেনে এস্কাভেটর দিয়ে গাছ উপড়ে ফেলা হয়। পরে উপড়ে ফেলা গাছের কিছু অংশ স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তি নিয়ে যান। এতে সরকার সম্ভাব্য রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হয়েছে বলে দাবি তাদের।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, বন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তারা উপড়ে ফেলা গাছগুলো উদ্ধার করে সরকারি রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দক্ষিণ মৌডুবীর ভাঙার খাল থেকে উত্তরে কেউর হাওলা হয়ে মহিষকাটা পর্যন্ত রাবনাবাদ নদীসংলগ্ন বেড়িবাঁধের সড়কের পাশে লাগানো মেহগনি, রেইনট্রি, চাম্বলসহ বিভিন্ন প্রজাতির শত শত গাছ উপড়ে ফেলা হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন যন্ত্র দিয়ে গাছগুলো উপড়ে ফেলার পর অনেক গাছ ভেঙে-চুড়ে আশপাশের জমি ও গর্তে ফেলে রাখা হয়েছে।
বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৩-২০০৪ এবং ২০১০-২০১১ অর্থবছরে পাউবোর অনুমতি নিয়ে মৌডুবী এলাকার প্রায় ৬০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধে বনায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা উপকারভোগী হিসেবে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে কেউর হাওলা থেকে মহিষকাটা পর্যন্ত ৩ দশমিক ২৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের একটি অংশে সংস্কারকাজ চলছে। উপকারভোগীরা আপত্তি জানালেও কাজ বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
সবুজ বনায়ন প্রকল্পের উপকারভোগী কমিটির সভাপতি মো. আক্কাস ফরাজী বলেন, গাছ লাগানোর পর থেকে আমরা নিয়মিত পরিচর্যা করেছি। এখন বেড়িবাঁধ সংস্কারের নামে প্রায় ৫০০ বড় গাছ উপড়ে ফেলা হয়েছে। বাধা দিলেও কেউ কথা শোনেনি। উপড়ে ফেলা গাছগুলোর বাজারমূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা হতে পারে।
রাঙ্গাবালী উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ সাগরকন্যার এ প্রতিবেদককে বলেন, গাছ অপসারণের বিষয়ে বন বিভাগকে প্রয়োজনীয় সময় না দিয়েই ঠিকাদার গাছ উপড়ে ফেলেছে, যা নিয়মবহির্ভূত। গাছগুলো নিলামের মাধ্যমে অপসারণের প্রক্রিয়া চলছিল।
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মো. জামাল বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ শুরু করেছি। বৃষ্টির আগেই কাজ শেষ করতে হবে। তবে কর্তৃপক্ষ বন্ধ রাখতে বললে কাজ বন্ধ করা হবে।
পটুয়াখালীর কলাপাড়া পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহ আলম বলেন, বেড়িবাঁধ সংস্কারের জন্য গাছ অপসারণের বিষয়ে তিন মাস আগে বন বিভাগকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল। কিন্তু এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এলাকাটি ঝুঁকিপূর্ণ ও বন্যাপ্রবণ হওয়ায় বর্ষার আগে দ্রুত সংস্কারকাজ করা হচ্ছে। তবে ঠিকাদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আর কোনো গাছ যেন উপড়ে ফেলা বা ক্ষতিগ্রস্ত না করা হয়।
বাংলাদেশ সময়: ১৪:৫৫:৪৯ ● ৩৭ বার পঠিত
