রবিবার ● ১০ মে ২০২৬
কলাপাড়ায় রাবনাবাদ নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন, বাড়ছে ভাঙন; হারাচ্ছে সরকার রাজস্ব
হোম » বিশেষ প্রতিবেদন » কলাপাড়ায় রাবনাবাদ নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন, বাড়ছে ভাঙন; হারাচ্ছে সরকার রাজস্ব
মেজবাহউদ্দিন মাননু, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) থেকে
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় চম্পাপুর ইউনিয়নের দেবপুর এলাকায় ভাঙনকবলিত রাবনাবাদ নদী থেকে প্রকাশ্যে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে দিনে-রাতে ড্রেজার বসিয়ে বালু কাটার কারণে নদীভাঙনের তীব্রতা আরও বেড়েছে। এতে কৃষিজমি, বসতভিটা ও বেড়িবাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নদীভাঙনের কারণে ইতোমধ্যে ওই এলাকার দীর্ঘ অংশের কৃষিজমি ও বেড়িবাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। অন্তত ৪০০ পরিবার বাড়িঘর ও জমিজমা হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এর মধ্যেই অব্যাহত বালু উত্তোলনে নতুন করে আতঙ্কে রয়েছেন নদীতীরবর্তী বাসিন্দারা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারের নির্ধারিত বালুমহাল সাগরমোহনা ‘খাজুরা’ থেকে বালু উত্তোলনের নিয়ম থাকলেও একটি প্রভাবশালী মহল তা উপেক্ষা করে রাবনাবাদ নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। এসব বালু পায়রা বন্দরসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে উচ্চমূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে। অথচ প্রশাসনের কার্যকর তদারকি না থাকায় অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধ হচ্ছে না।
স্থানীয়দের দাবি, প্রায় নয় বছর ধরে এ নদীতে বালু উত্তোলন চলছে। এর ফলে উপজেলার দেবপুর থেকে করমজাতলা পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকার বেড়িবাঁধের বড় অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। কয়েক দফায় জিওব্যাগ ও জিওটিউব ফেলে ভাঙনরোধের চেষ্টা করা হলেও তা স্থায়ী সমাধান আনতে পারেনি।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. রেজাউল সাগরকন্যাকে বলেন, প্রায় ১০ মাস আগে জলোচ্ছ্বাসে জিওব্যাগ ও জিওটিউবসহ প্রায় ৪০০ ফুট বাঁধ নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এখনো ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। তার দাবি, বছরের পর বছর ড্রেজার দিয়ে বালু কাটার কারণেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, কলাপাড়া উপজেলার ৫৪/এ পোল্ডারের বেড়িবাঁধ প্রতিবছর রাবনাবাদ নদীর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বালু উত্তোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ধানখালী সংলগ্ন রাবনাবাদ নদী থেকে একেক ট্রিপে প্রায় ৩ হাজার সিএফটি বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদেক বলেন, আন্ধারমানিক নদীর সাগরমোহনায় সরকারের নির্ধারিত ‘খাজুরা’ বালুমহাল রয়েছে, যা থেকে বছরে অন্তত ৬৮ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়। এই বৈধ বালুমহাল ছাড়া অন্য কোথাও থেকে বালু উত্তোলন করা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ সময়: ১০:৪৩:১৫ ● ৪১ বার পঠিত
