শুক্রবার ● ৮ মে ২০২৬
গৌরনদীতে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী অপহরণ, ১২ দিন আটকে ধর্ষণের অভিযোগ
হোম » বরিশাল » গৌরনদীতে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী অপহরণ, ১২ দিন আটকে ধর্ষণের অভিযোগ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, গৌরনদী (বরিশাল)
বরিশালের গৌরনদীতে পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে (১১) অপহরণ করে ১২ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগে চারজনকে আসামি করে গৌরনদী মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য শুক্রবার বরিশাল মেডিকেলে শিশুটিকে পাঠিয়েছে পুলিশ। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ মাগুরা গ্রামের ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
মামলার আসামিরা হলেন- গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার জলিরপাড় এলাকার খালকুলা গ্রামের ভগরত ঢালী, মেঘা বাড়ৈ, তার স্বামী রাজু ঢালী এবং গৌরনদীর দক্ষিণ মাগুরা গ্রামের কমল বাড়ৈ।
ভিকটিম জানায়, একই বাড়ির চাচাতো বোন মেঘা বাড়ৈ তাকে ফুসলিয়ে গত ২৬ এপ্রিল নিজের শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে বিবাহিত ভগরত ঢালীর সঙ্গে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়া হয়। পরে ভগরত ঢালী তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে একাধিকবার যৌন নির্যাতন করে। বিয়েতে রাজি না হওয়ায় তাকে ১২ দিন আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়।
ভিকটিমের বাবা জানান, গত ২৬ এপ্রিল রাতে তার মেয়ে নিখোঁজ হলে পরদিন ২৭ এপ্রিল গৌরনদী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। বুধবার (৬ মে) জানতে পারেন, তার মেয়েকে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার জলিরপাড় এলাকায় আটকে রাখা হয়েছে। পরে পুলিশকে অবহিত করলে সেখান থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনা হয়।
বাড়িতে ফেরার পর শিশুটি পুরো ঘটনা জানায় বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় তিনি জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
তবে অভিযুক্ত মেঘা বাড়ৈ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ওই স্কুলছাত্রীকে আমরা বিয়ে দেইনি। সে নিজের ইচ্ছায় বিয়ে করেছে। এ বিষয়ে আমরা কিছু জানি না।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গৌরনদী থানার এসআই মো. জহিরুল হক জানান, ভিকটিমের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে ধর্ষণ মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। মেডিকেল পরীক্ষার জন্য শিশুটিকে শুক্রবার সকালে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসি ইউনিটে পাঠানো হয়েছে। মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
বাংলাদেশ সময়: ২২:০৭:৪৬ ● ২৩ বার পঠিত
