বুধবার ● ৬ মে ২০২৬

বামনার সেই ডাক্তার জামিনে বেরিয়ে এবার রংপুর কারাগারে

হোম » বরগুনা » বামনার সেই ডাক্তার জামিনে বেরিয়ে এবার রংপুর কারাগারে
বুধবার ● ৬ মে ২০২৬


 

বামনার সেই ডাক্তার জামিনে বেরিয়ে এবার রংপুর কারাগারে

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা

রংপুরে স্ত্রীর দায়ের করা যৌতুক মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত বরগুনার বামনা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া চিকিৎসক মোঃ মহিদুল ইসলাম (৩০) শেষ পর্যন্ত রংপুর আদালতে হাজির হয়ে কারাগারে গেছেন। এর আগে একই মামলায় তিনি বরগুনা আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন।

 

মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ এপ্রিল বামনা থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে বরগুনা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করে। ওইদিন আদালত তাকে জামিন দিলে তিনি মুক্তি পান এবং নির্ধারিত সময়ে রংপুর আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

 

পরবর্তীতে বুধবার (৬ মে) রংপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এ তিনি হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। তবে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

 

অভিযুক্ত চিকিৎসক মোঃ মহিদুল ইসলাম বগুড়ার আদমদিঘী থানার শালগ্রাম এলাকার মোঃ শফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি বরগুনার বামনা উপজেলার ডৌয়াতলা এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন।

 

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর রংপুরের লিজা নামের এক নারীকে তিনি বিয়ে করেন এবং বিয়ের সময় নিজেকে অবিবাহিত পরিচয় দেন। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে।

 

২০২৩ সালে লিজা প্রথমে রংপুর আদালতে মামলা করেন। পরে আপসের ভিত্তিতে মামলা প্রত্যাহার হলেও পরবর্তীতে আবারও যৌতুক দাবি ও নির্যাতনের অভিযোগে নতুন করে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

 

অভিযোগ অনুযায়ী, পরোয়ানা জারির পর তিনি দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থেকে বামনায় অবস্থান নেন এবং সেখানে কর্মরত ছিলেন।

 

এদিকে ভুক্তভোগী লিজা দাবি করেন, তিনি নিজে উপস্থিত হয়ে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়ায় সহায়তা করেছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, আদালতে তার বক্তব্য পুরোপুরি শোনা হয়নি এবং আসামি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সুবিধা পেয়েছেন।

 

লিজা আরও দাবি করেন, অভিযুক্ত চিকিৎসকের একাধিক বিয়ে রয়েছে এবং তিনি নিজেকে বারবার অবিবাহিত পরিচয় দিয়ে বিয়ে করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

অন্যদিকে, চিকিৎসক মহিদুল ইসলাম পুলিশ হেফাজতে থাকায় তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ সময়: ১৮:১৮:৩৫ ● ৩৭ বার পঠিত