বুধবার ● ২৯ এপ্রিল ২০২৬
বাগেরহাটে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের অশালীন আচরণের অভিযোগ
হোম » শিক্ষা » বাগেরহাটে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের অশালীন আচরণের অভিযোগ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বাগেরহাট
বাগেরহাট সদর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের রণজিৎপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা শাখার শিক্ষক সরদার মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে নবম ও দশম শ্রেণির একাধিক ছাত্রীকে অশালীন আচরণ, অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ ও মানসিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসন বলছে, এমন অভিযোগ গুরুতর এবং তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
অভিযোগে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী স্বর্ণা দাস বলেন, ওই শিক্ষক ক্লাসে এসে ছাত্রীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন, কখনো গায়ে হাত দেন, কখনো ওড়না ধরে টান দেন। তিনি আরও বলেন, ‘কপালের টিপ সরিয়ে দেন এবং চোখের দিকে তাকিয়ে অস্বস্তিকর মন্তব্য করেন। এমনকি মনের ভাষা পড়ে দিতে পারি- এ ধরনের কথা বলেন।’
নবম শ্রেণির আরেক শিক্ষার্থী টলি মজুমদার বলেন, ‘স্যার প্রায়ই বলেন, আমার চোখের দিকে তাকাও, আমি তোমার মন পড়ে নিতে পারব। এতে আমরা অস্বস্তিতে পড়ি।’
দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাজহারুল পাটোয়ারী অভিযোগ করে বলেন, শিক্ষক অনেক সময় পড়া না পারলেও শিক্ষার্থীদের অপমান করেন এবং ছাত্রীদের গায়ে হাত দেন ও কপালে টিপ স্পর্শ করেন।
আরেক শিক্ষার্থী স্বর্ণা দাস বলেন, ক্লাসে পড়াশোনার পরিবর্তে উল্টাপাল্টা কথা বলা হয় এবং সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় ঘাড়ে হাত দেওয়ার ঘটনাও ঘটে, যা তাদের বিব্রত করে।
নাজিফা খাতুন নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘কেউ প্রতিবাদ করলে স্কুল থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। অনেক অশালীন কথাও বলা হয়, যা আমরা কাউকে বলতে পারি না।’
এদিকে অভিভাবক ইলিয়াস শেখ বলেন, তার মেয়ে আগে ওই বিদ্যালয়ে পড়ত। শিক্ষকের আচরণে অস্বস্তি বোধ করায় তিনি মেয়েকে অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করান। তার দাবি, ছাত্রীদের বাইরে যাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া এবং স্কুলের সামনে দোকানে বসে ধূমপান করার অভিযোগও রয়েছে।
অভিযুক্ত শিক্ষক সরদার মাহবুবুর রহমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপক দাসও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসা. আতিয়া খাতুন বলেন, ‘এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাদেকুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে কিছু আপত্তিকর বিষয় আমাদের নজরে এসেছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৬:০২:২৫ ● ২৬ বার পঠিত
