বৃহস্পতিবার ● ১৬ এপ্রিল ২০২৬

প্রথম থেকে পঞ্চম পর্যন্ত ফাঁকা ভান্ডারিয়ায় দুই মাদ্রাসায় ২৫ শিক্ষক পড়ান ৩৩ শিক্ষার্থীকে

হোম » লিড নিউজ » প্রথম থেকে পঞ্চম পর্যন্ত ফাঁকা ভান্ডারিয়ায় দুই মাদ্রাসায় ২৫ শিক্ষক পড়ান ৩৩ শিক্ষার্থীকে
বৃহস্পতিবার ● ১৬ এপ্রিল ২০২৬


 

ভান্ডারিয়ায় ‘কাগুজে’ ৪০১ শিক্ষার্থী, শ্রেণিকক্ষে মাত্র ৩৩

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, পিরোজপুর

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার উত্তর ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়নের মেদিরাবাদ এলাকায় দুটি দাখিল মাদরাসায় কাগজ-কলমে ৪০১ শিক্ষার্থী দেখানো হলেও সরেজমিনে পাওয়া গেছে মাত্র ৩৩ জন। বিপরীতে প্রতিষ্ঠান দুটিতে শিক্ষক রয়েছেন ২৫ জন, তবে উপস্থিত ছিলেন ১২ জন।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বেলা ১১টা ২০ মিনিটে সরেজমিনে জামেআয়ে উম্মুল কুরআন ঈদগাহ দাখিল মাদরাসায় গিয়ে দেখা যায়, তালিকায় ২০৩ শিক্ষার্থী থাকলেও প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে কোনো শিক্ষার্থী নেই। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণিতে উপস্থিত ছিল মাত্র ৬ জন। ১২ জন শিক্ষকের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ৫ জন। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় শ্রেণিকক্ষের বেঞ্চে ধুলাবালি জমে আছে। হাজিরা খাতায় সন্তোষজনক উপস্থিতি দেখানো হলেও বাস্তবে শিক্ষার্থী নেই। অবকাঠামো ও শ্রেণিকক্ষও জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

সেখান থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরের দারুল মুহাম্মদ আদর্শ বালিকা দাখিল মাদরাসায় গিয়ে দেখা যায়, কাগজে ১৯৮ শিক্ষার্থীর নাম থাকলেও উপস্থিত ছিল ২৭ জন। ১৩ জন শিক্ষকের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ৭ জন। দুই প্রতিষ্ঠানের কোনো সুপারই সে সময় উপস্থিত ছিলেন না। শিক্ষকরা জানান, তারা উপজেলা পর্যায়ের সভায় রয়েছেন।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা সাগরকন্যাকে অভিযোগে জানান, কিছু শিক্ষক নিয়মিত মাদরাসায় এসে সময় কাটিয়ে চলে যান। শিক্ষার্থীরা এলেও ঠিকমতো ক্লাস হয় না। তারা প্রশ্ন তোলেন, এমন অবস্থায় শিক্ষক-কর্মচারীরা কীভাবে বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কেন তা তদারকি করছে না।

 

জামেআয়ে উম্মুল কুরআন ঈদগাহ দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা ইসহাক আলী বলেন, ‘আমি দাখিল পরীক্ষার সভায় ছিলাম। কিছু শিক্ষক টিন কেনার জন্য বাইরে গিয়েছিলেন। কাজ চলার কারণে আজ শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কম ছিল।’

 

ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুল্লা আল মাহমুদ বলেন, ‘সুপার সভায় ছিলেন। অন্য শিক্ষকরা কেন অনুপস্থিত, তা খতিয়ে দেখবো।’

 

দারুল মুহাম্মদ আদর্শ বালিকা দাখিল মাদরাসার সভাপতি আব্দুল আল জাবির বলেন, ‘আমি ঢাকায় আছি। শিক্ষক উপস্থিতি কম হওয়ার কথা নয়। বিষয়টি খোঁজ নিচ্ছি।’

 

ভান্ডারিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সভা থাকলেও অন্য শিক্ষকদের অনুপস্থিতির কারণ গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

ভান্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাসিবুল হাসান বলেন, ‘অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হবে। সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বাংলাদেশ সময়: ২১:৩৪:৫৫ ● ৪৩ বার পঠিত