সোমবার ● ৬ এপ্রিল ২০২৬
নেছারাবাদে ২৪ বছর পর পিতৃত্বের স্বীকৃতি চেয়ে নাহিদের আকুতি
হোম পেজ » পিরোজপুর » নেছারাবাদে ২৪ বছর পর পিতৃত্বের স্বীকৃতি চেয়ে নাহিদের আকুতি![]()
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, নেছারাবাদ (পিরোজপুর)
পিরোজপুরের নেছারাবাদে পিতৃপরিচয়ের দাবিতে মো. নাহিদ (২৪) নামের এক যুবক দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরেও জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে না পারার অভিযোগ উঠেছে। ২৪ বছর পর পিতৃত্বের স্বীকৃতি চেয়ে মা-ছেলে সাংবাদিকদের দ্বারস্থ হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০১ সালে একই উপজেলার জলাবাড়ি ইউনিয়নের দক্ষিণ কামারকাঠী গ্রামের মিজান বালীর সঙ্গে মৃত হাতেম আলীর মেয়ে নাসিমা বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের এক বছরের মধ্যে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। বিচ্ছেদের সময় নাসিমা বেগম পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। ২০০২ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি সন্তানের জন্ম হলেও মিজান বালী তাকে নিজের সন্তান হিসেবে অস্বীকার করেন। পরে নাসিমা বেগম সন্তানসহ বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন।
বর্তমানে পিতৃপরিচয় না থাকায় নাহিদ জন্মনিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র করতে পারছেন না বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী নাহিদ বলেন, ‘আমার জন্মের আগেই বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হয়। এখন আমার বাবা আমাকে অস্বীকার করছেন। পিতৃত্বের দাবিতে বহুবার সমাজপতিদের কাছে গেছি, বাবার কাছেও গিয়েছি- কোনো সমাধান পাইনি। জন্মনিবন্ধন করতে বাবার জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি লাগে। সমাজে নানা কথা শুনতে হয়। আমি কি পিতৃত্বের পরিচয় পাব না? আমি আমার পিতৃত্বের স্বীকৃতি চাই।’
নাহিদের মা নাসিমা বেগম বলেন, ‘ভালোবাসার বিয়ে হলেও গরিব হওয়ায় এক বছরের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়। তখন আমি পাঁচ মাসের গর্ভবতী ছিলাম। সন্তানের জন্মের পর তার বাবা কোনো খোঁজ নেয়নি, বরং অস্বীকার করেছে। অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালাই। এখন আমার সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য পিতৃপরিচয় জরুরি।’
অভিযুক্ত মিজান বালী বলেন, ‘বিয়ের কিছুদিন পরই আমাদের তালাক হয়। পরে নাসিমা অন্যত্র বিয়ে করেছেন। যে ছেলে পিতৃত্বের দাবি করছে, সে আমার সন্তান নয়। আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করতে একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে।’
গ্রাম চৌকিদার বিপুল হালদার বলেন, ‘মিজান বালী ও নাসিমা বেগমের বিয়ে আমরা দিয়েছিলাম। পরে দাম্পত্য কলহে বিচ্ছেদ হয়। এখন নাহিদ নামের এক যুবক পিতৃত্বের দাবি করছে বলে শুনছি।’
ওয়ার্ড সদস্য লিটন খান বলেন, ‘বিয়ের বিষয়টি গ্রামের সবাই জানে। বিচ্ছেদের পর সন্তান হওয়ায় মিজান তা অস্বীকার করছেন। তবে নাহিদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় পিতৃপরিচয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
জলাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. তৌহিদুল ইসলাম তৌহিদ বলেন, ‘নাহিদ জন্মনিবন্ধনের জন্য পরিষদে এসেছিল। বিষয়টি পুরোনো হওয়ায় যাচাই ছাড়া সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে তার ভবিষ্যৎ বিবেচনায় সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
বাংলাদেশ সময়: ৯:৫৮:৩২ ● ১২২ বার পঠিত
