মঙ্গলবার ● ৩১ মার্চ ২০২৬

তদন্তে অনিয়মের সত্যতা জিয়ানগরে সরকারি রাস্তার বরাদ্দে ইউপি সদস্যের বাড়ির পথ নির্মাণ

হোম পেজ » পিরোজপুর » তদন্তে অনিয়মের সত্যতা জিয়ানগরে সরকারি রাস্তার বরাদ্দে ইউপি সদস্যের বাড়ির পথ নির্মাণ
মঙ্গলবার ● ৩১ মার্চ ২০২৬


 

জিয়ানগরে সরকারি রাস্তার বরাদ্দে ইউপি সদস্যের বাড়ির পথ নির্মাণ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, জিয়ানগর (পিরোজপুর)

পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায় সরকারি রাস্তা সংস্কারের বরাদ্দ ব্যবহার করে ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যের নিজ বাড়ির প্রবেশপথ নির্মাণের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ইন্দুরকানী সদর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মিজান হাওলাদারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

 

রবিবার (২৯ মার্চ) উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিলন তালুকদার নোটিশটি জারি করেন। এতে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কর্মসূচির (কাবিখা-গম) আওতায় উত্তর কালাইয়া এলাকায় রুস্তম মল্লিকের বাড়ি থেকে মামুন হাওলাদারের বাড়ি পর্যন্ত সড়ক সংস্কারের জন্য তিন মেট্রিক টন গম বরাদ্দ দেওয়া হয়, যার মূল্য এক লাখ টাকারও বেশি।

 

তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, নির্ধারিত সড়কে কাজ না করে বরাদ্দকৃত ইট ব্যবহার করে ইউপি সদস্য মিজান হাওলাদারের ভাই মামুন হাওলাদারের বাড়ির প্রবেশপথে ইটসোলিং করা হয়েছে। মামুন হাওলাদার তার আপন ভাই এবং তারা একই বাড়িতে বসবাস করেন।

 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি সংস্কারের অপেক্ষায় থাকলেও সেটি উপেক্ষা করে ব্যক্তিগত কাজে সরকারি সম্পদ ব্যবহার করা হয়েছে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং তারা সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

 

অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি সদস্য মো. মিজান হাওলাদার সাগরকন্যাকে বলেন, তিনি ব্যক্তিগত অর্থে ইট কিনে রাস্তা নির্মাণ করেছেন। বরাদ্দ সংক্রান্ত কাগজপত্রে ভুল থাকতে পারে বলেও দাবি করেন তিনি।

 

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিলন তালুকদার জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তে অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য ও প্রকল্প সভাপতির বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে কেন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মো. হাফিজুর রহমান জানান, প্রশাসন অনিয়মের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। লিখিত জবাব পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৪:৪৭:৫৪ ● ৩৮ বার পঠিত