রবিবার ● ১৫ মার্চ ২০২৬
চেয়ারম্যানদের গাফিলতি বাউফলে জেলেদের খাদ্য সহায়তা জোটেনি
হোম পেজ » লিড নিউজ » চেয়ারম্যানদের গাফিলতি বাউফলে জেলেদের খাদ্য সহায়তা জোটেনি

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বাউফল (পটুয়াখালী)
নিষেধাজ্ঞার ১৫ দিন পার হয়ে গেলেও পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার জেলেদের ভাগ্যে তাদের খাদ্য সহায়তার চাল জোটেনি। যথাসময়ে খাদ্য সহায়তা না পাওয়ায় জেলেরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। জেলেদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানদের গাফিলতির কারণে জেলেদের মধ্যে চাল বিতরণ করা হয়নি।
উপজেলা মাৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের ছয়টি ইলিশ অভয়াশ্রমে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। বাউফল ও দশমিনা উপজেলা-সংলগ্ন তেঁতুলিয়ানদী এলাকায়ও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আছে। এ সময় নদীতে জাল ফেলাসম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকায় উপজেলার ছয় হাজার জেলে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। কর্মহীন জেলেদের পরিবারগুলোর জন্য সরকার ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় প্রতিমাসে ৪০ কেজি করে মোট ৮০ কেজি খাদ্য সহায়তার চাল বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার চেয়ারম্যান ও প্রশাসকদের কাছে ওই চাল উত্তোলন ও বিতরণের ছাড়পত্র প্রদান করেন। নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নগুলো খাদ্যগুদাম থেকে চাল উত্তোলন করে জেলেদের মধ্যে বিতরণ করবেন।
উপজেলার বিভিন্ন জেলেপাড়ায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নিষেধাজ্ঞার ১৪ দিন পার হলেও তালিকাভুক্ত জেলেদের ভাগ্যে এখনও সহায়তার চাল পৌঁছায়নি। পবিত্র রমজানের মধ্যেই শুরু হয়েছে মাছ শিকারের নিষেধাজ্ঞা। আয়-রোজগার বন্ধ থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেক জেলে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেকেই ধার-দেনা করে সংসার চালাচ্ছেন।
চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের জেলে মাহবুব বেপারী জানান, নদীতে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় আমরা অনেক কষ্টে আছি। রোজার মাসে ধার নিয়ে চলতে হচ্ছে। চেয়ারম্যানকে চালে দেওয়ার কথা বললেও তিনি বলেছেন, ‘এখন হবে না, ঈদের পর।
কালাইয়া ইউনিয়নের জেলে জামাল হাওলাদার বলেন, একমাত্র আয়ের উৎস নদীতে মাছ ধরা। মাছ ধরা ছাড়া পরিবারের খরচ চালানো সম্ভব নয়। চাল না পাওয়ায় খুব কষ্ট হচ্ছে, তা কাউকে বোঝাতে পারছি না। চেয়ারম্যান আমাদের কষ্টের কথা ভাবছেন না।
এই অভিযোগ বিষয়ে চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আবুল বশার মৃধা জানান, ঈদের পর চাল দেওয়া হবে। ট্রলারের সংকট থাকায় খাদ্যগুদাম থেকে চাল আনা সম্ভব হয়নি।
কালাইয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ফিরোজ হাওলাদার বলেন, আগে দশ টাকা কেজি দরের চাল বিতরণ শেষ হবে, এরপর জেলেদের চাল দেওয়া হবে।
বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ বলেন, জেলেদের চাল দ্রুত বিতরণের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ঈদের আগেই চাল বিতরণ করা হবে।
বাংলাদেশ সময়: ১৮:০৪:১৭ ● ২১ বার পঠিত
