মঙ্গলবার ● ১০ মার্চ ২০২৬

বরগুনায় যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ

হোম পেজ » বরগুনা » বরগুনায় যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ
মঙ্গলবার ● ১০ মার্চ ২০২৬


 

বরগুনায় যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উপপ্রধানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা

বরগুনা যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উপপ্রধান কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। রাজিব নামের এক প্রশিক্ষণার্থী সোমবার বরগুনা জেলা প্রশাসক বরাবর এ অভিযোগ দেন।

অভিযোগে বলা হয়, কেন্দ্রটিতে গরু-পশু, হাঁস-মুরগি পালন, মৎস্যচাষ ও প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ক তিন মাস মেয়াদি প্রশিক্ষণে নানা অনিয়ম চলছে। প্রতিদিন ৫০ জন প্রশিক্ষণার্থীর ক্লাস হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে উপস্থিত থাকে মাত্র ৫ থেকে ৭ জন। আবাসিক হোস্টেলে থাকা ও খাবারের জন্য প্রতিদিন প্রশিক্ষণার্থীদের নামে ১৫০ টাকা বরাদ্দ থাকলেও সেখানে নিয়মিত উপস্থিত থাকেন মাত্র ৪ থেকে ৫ জন। তবে খাবারের তালিকায় দেখানো হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ জনের নাম।

অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রশিক্ষণার্থীদের সার্টিফিকেট দেওয়ার নামে এক মাসের ভাতার স্বাক্ষর নেওয়া হচ্ছে। উপস্থিতির হাজিরা খাতা দেখতে চাইলে তা দেখাতে পারেননি উপপ্রধান কামরুল হাসান। কোর্স শুরুর তারিখ ১ জানুয়ারি নির্ধারিত থাকলেও কার্যক্রম শুরু হয় ৫ জানুয়ারি থেকে। নির্বাচনের সরকারি ছুটি থাকলেও প্রশিক্ষণার্থীদের চার দিন আগেই বাড়ি পাঠানো হয়েছে। তবু খাবারের ভাতার স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে ১ জানুয়ারি থেকেই, যা প্রকৃত উপস্থিতির সঙ্গে মিলছে না।

লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, রমজান মাসে আবাসিক হোস্টেলে ইফতার ও খাবারের মান অত্যন্ত নিম্নমানের। আউটসোর্সিং কর্মীরাও প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করছেন। এছাড়া স্থানীয় অনেক যুবককে প্রশিক্ষণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

প্রশিক্ষণার্থী ও অভিযোগকারী রাজিব ও হৃদয় বলেন, ‘আমরা ১০২ ব্যাচে প্রশিক্ষণ নিচ্ছি। উপপ্রধান কামরুল হাসান আমাদের ঠিকমতো খাবার দেন না। ৫০ জন প্রশিক্ষণার্থীর আবাসিকে থাকার কথা থাকলেও সেখানে মাত্র ৪-৫ জন থাকি। তিনি সবাইকে ছুটি দিয়ে খাবারের টাকা আত্মসাৎ করেন। প্রকৃত প্রশিক্ষণার্থীদের বাদ দিয়ে দূর-দূরান্ত থেকে লোক এনে কোর্সে দেখানো হয়। এ বিষয়ে আমরা জেলা প্রশাসক ও বরগুনা প্রেসক্লাবে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে উপপ্রধান কামরুল হাসান বলেন, ‘একটি মহল ষড়যন্ত্র করে আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ দিয়েছে। আমি কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি করিনি।’

বরগুনা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক জাকির হোসেন জানান, তিনি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে বরগুনার জেলা প্রশাসক মিজ তাছলিমা আক্তারের কাছে ক্ষুদেবার্তা পাঠানো হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ সময়: ১৫:৫৫:১১ ● ৫৬ বার পঠিত