বৃহস্পতিবার ● ৫ মার্চ ২০২৬
চরফ্যাশনে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে সুপেয় পানির তীব্র সংকটে
হোম » ভোলা » চরফ্যাশনে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে সুপেয় পানির তীব্র সংকটে

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, চরফ্যাশন (ভোলা)
দ্বীপজেলা ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলার পৌরসভাসহ ২১টি ইউনিয়নের প্রায় অর্ধলক্ষ গভীর নলকূপে পানি উঠছে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা ও সংশ্লিষ্টরা। ফলে বাসিন্দাদের পুকুর, খাল ও ডোবার পানি ব্যবহার করতে হচ্ছে এবং এতে চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চরফ্যাশন পৌরসভাসহ উপজেলার ২১টি ইউনিয়নে সরকারি উদ্যোগে প্রায় ১২-১৩ হাজার গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯ হাজার ৮৫১টি সচল থাকলেও সরকারি অর্থায়নে স্থাপিত প্রায় ২ হাজার ৫০০টি নলকূপ বর্তমানে অকেজো হয়ে পড়েছে। এছাড়া ব্যক্তি উদ্যোগে স্থাপিত প্রায় ৪০ হাজারের বেশি নলকূপেও পানি উঠছে না। ফলে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে প্রায় অর্ধলক্ষ গভীর নলকূপে পানি না ওঠায় গোটা উপজেলায় সুপেয় পানির সংকট দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে জানা গেছে, অধিকাংশ এলাকায় নলকূপে পানি না ওঠায় মানুষ বাধ্য হয়ে পুকুর, খাল ও ডোবার পানি ব্যবহার করছেন। এতে পানি দূষণের কারণে নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। বিভিন্ন মসজিদেও পানির সংকট দেখা দেওয়ায় মুসল্লিদের অজু করতেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
চেয়ারম্যান বাজার এলাকার পল্লী চিকিৎসক মো. জাকির হোসেন ফিরোজ বলেন, বুধবার চেয়ারম্যান বাজার জামে মসজিদের পানির সরবরাহ বন্ধ থাকায় অনেক মুসল্লি তারাবির নামাজের আগে অজু করতে পারেননি।
চরফ্যাশন পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী মো. হানিফ বলেন, তাদের বাড়ির নলকূপে ঠিকমতো পানি উঠছে না। ফলে এলাকায় চরম সুপেয় পানির সংকট তৈরি হয়েছে।
জাহানপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা ও পূর্ব ওমরাবাজ লুৎফনুনেছা আলীম মাদ্রাসার লাইব্রেরিয়ান মো. রাসেল হাওলাদার বলেন, জাহানপুরে প্রায় ৯৫ শতাংশ টিউবওয়েল নষ্ট হয়ে গেছে। খাল খনন করে মিষ্টি পানির ব্যবস্থা করা কিংবা গভীর নলকূপ নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
চরমানিকা ইউনিয়নের দক্ষিণ আইচা বাজারের আইচা মেডিকেল হলের মালিক সাইফুল হাওলাদার বলেন, কৃষি জমিতে ডিপ টিউবওয়েল বসিয়ে ইরি ধান ও তরমুজ চাষের কারণে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর কমে যেতে পারে।
জাহানপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা নুরুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, প্রায় ৩০ বছর ধরে টিউবওয়েলের পানি ব্যবহার করলেও তিন মাস ধরে তাদের এলাকায় বেশিরভাগ নলকূপে পানি উঠছে না। পুরো এলাকায় মাত্র কয়েকটি নলকূপ এখনো সচল আছে।
চরফ্যাশন উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী কামাল হোসেন জানান, গত কয়েক বছর ধরে শুষ্ক মৌসুমে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। প্রতি বছর গড়ে প্রায় দুই ফুট করে পানির স্তর নিচে নামছে। অপরিকল্পিতভাবে খাল-পুকুর ও জলাশয় ভরাট এবং সেচ কাজে অতিরিক্ত পানি উত্তোলনের কারণে এ সংকট তৈরি হয়েছে। বর্ষা মৌসুম শুরু না হওয়া পর্যন্ত এ সমস্যা চলতে পারে।
উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, নলকূপে পানি না ওঠায় অনেক নিম্নআয়ের মানুষ পুকুর ও জলাশয়ের পানি ব্যবহার করছেন। এতে ডায়রিয়া ও আমাশয়ের মতো পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লোকমান হোসেন এ বিষয়ে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করার পরামর্শ দেন।
এ বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা বিএডিসির সহকারী আরিফ হোসেন বলেন, সেচ কৃষকদের ধান উৎপাদনের জন্য প্রয়োজন। তবে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার বিষয়টি তাদের কাছে স্পষ্টভাবে জানা নেই।
বাংলাদেশ সময়: ১০:৫৬:১৯ ● ৬৪ বার পঠিত
