বৃহস্পতিবার ● ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রমজানকে সামনে রেখে বাবুগঞ্জে আখের গুড় তৈরিতে ব্যস্ত চাষিরা

হোম পেজ » ফিচার » রমজানকে সামনে রেখে বাবুগঞ্জে আখের গুড় তৈরিতে ব্যস্ত চাষিরা
বৃহস্পতিবার ● ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


 

রমজানকে সামনে রেখে বাবুগঞ্জে আখের গুড় তৈরিতে ব্যস্ত চাষিরা

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বাবুগঞ্জ (বরিশাল)

রমজান মাসকে সামনে রেখে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে আখের গুড় তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। কয়েক যুগ ধরে উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামাঞ্চলের মানুষ আখের রস থেকে গুড় তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। শীত মৌসুমের শুরু থেকে রমজানজুড়ে চলে গুড় তৈরির এ কর্মযজ্ঞ।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, কেউ মেশিনে আখ মাড়াই করছেন, কেউ রস নিয়ে ঢালছেন জ্বাল দেওয়ার কড়াইয়ে। প্রথমে আখ কেটে পাতা ও অবশিষ্টাংশ গৃহপালিত পশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এরপর মেশিনের মাধ্যমে আখের রস বের করে বিশাল চুলার ওপর বসানো বড় লোহার কড়াইয়ে জ্বাল দেওয়া হয়। টগবগ করে ফুটতে থাকা রস লালচে আকার ধারণ করলে এক চুলা থেকে আরেক চুলায় নেওয়া হয়। আখ মাড়াইয়ের পর অবশিষ্ট অংশই জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা জ্বাল দেওয়ার পর চুলা থেকে নামিয়ে ২০ থেকে ২৫ মিনিট রেখে দেওয়া হলে তা শক্ত হয়ে যায়। পরে নির্দিষ্ট আকারে গড়ে তোলা হয় সুস্বাদু গুড়।

 

স্থানীয়রা জানান, দূরদূরান্ত থেকে ক্রেতারা গরম গুড় কিনতে আসেন। ভেজালমুক্ত ও সুস্বাদু হওয়ায় বাবুগঞ্জের গুড়ের চাহিদা বেশি। বাজারে বিক্রি করে যে আয় হয়, তা দিয়েই গ্রামের অধিকাংশ পরিবার সংসার চালান।

 

গুড় প্রস্তুতকারী মো. সামিম হাওলাদার সাগরকন্যাকে বলেন, তিনি প্রায় ৫০ বছর ধরে আখ চাষ ও গুড় তৈরি করছেন। এ বছর তিনি ৩০ শতক জমিতে আখ চাষ করেছেন। সরকার কিছু সহায়তা দিয়েছে। আখ ও গুড় একসঙ্গে বিক্রি করলে ভালো দাম পাওয়া যায় বলে জানান তিনি।

 

আরেক প্রস্তুতকারী মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন প্রায় ৯ পাক গুড় তৈরি হয়। প্রতি কেজি ২০০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। কোনো ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় না। অফলাইনের পাশাপাশি অনলাইনেও গুড় বিক্রি করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

 

আখ চাষি মেখলেচুর রহমান বলেন, পাওয়ার টিলারের ইঞ্জিন ব্যবহার করে গুড় তৈরি করা হয়। পরিবারের সদস্যরাই শ্রম দেন। তবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় একটি আখ মাড়াইয়ের কল স্থাপন করা হলে উৎপাদন খরচ কমবে এবং আগ্রহ বাড়বে।

রমজানকে সামনে রেখে বাবুগঞ্জে আখের গুড় তৈরিতে ব্যস্ত চাষিরা

 

বাবুগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে বাবুগঞ্জ উপজেলায় ৫০ হেক্টর জমিতে আখ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও তার চেয়ে বেশি জমিতে চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও ভালো হয়েছে।

 

বাবুগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রউফ জানান, বরিশাল জেলার মধ্যে বাবুগঞ্জ উপজেলায় আখের চাষ বেশি হয়ে থাকে। কৃষি প্রণোদনার মাধ্যমে চাষিদের সহায়তা দেওয়া হয়েছে। অনেক জেলায় সরকারের চিনিকল থাকলেও এ অঞ্চলে নেই। স্থানীয় চাষিদের চাহিদার ভিত্তিতে চিনিকল স্থাপনের প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশ সময়: ২২:৪২:১৭ ● ১৮ বার পঠিত