বুধবার ● ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
কুয়াকাটা সৈকতে মৃত জেলিফিশের ভিড়, দুর্গন্ধ ও পরিবেশ দূষণের শঙ্কা
হোম পেজ » লিড নিউজ » কুয়াকাটা সৈকতে মৃত জেলিফিশের ভিড়, দুর্গন্ধ ও পরিবেশ দূষণের শঙ্কা

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী)
সমুদ্রের পানিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাওয়ায় জোয়ারের সঙ্গে ভেসে এসে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের দীর্ঘ ৩৮ কিলোমিটারজুড়ে একাধিক পয়েন্টে অসংখ্য মৃত ও জীবিত জেলিফিশ বালুতে আটকে রয়েছে। গত সোমবার থেকে সৈকতের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মৃত জেলিফিশ নিয়ে পর্যটক ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দুর্গন্ধের কারণে পর্যটকরা কাছে যেতে পারছেন না; অনেকে বাতাসের বিপরীত দিকে দাঁড়িয়ে দূর থেকে দেখছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জোয়ারের পানির সঙ্গে আসা জেলিফিশগুলোর কোনোটি ছোট, কোনোটি আবার আকারে বড়। দেখতে অনেকটা অক্টোপাসের মতো হলেও স্থানীয় জেলেদের কাছে এগুলো ‘লোনা’ নামে পরিচিত। পর্যটক দস্তগীর বলেন, জেলিফিশের নাম শুনলেও এত কাছ থেকে আগে দেখেননি; দ্রুত অপসারণ না করলে এগুলো পঁচে সৈকতের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত করবে। স্থানীয় জেলে মো. নয়ন দাস জানান, কয়েক দিন আগে সমুদ্রে মাছধরা জালে বিপুল পরিমাণ জেলিফিশ ধরা পড়ে, পরে সেগুলো সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়।
উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন রাজু বলেন, মৃত জেলিফিশ পঁচে পড়ে থাকলে মারাত্মক পরিবেশগত ক্ষতি হতে পারে; কেন এগুলো মারা যাচ্ছে, তা নিয়ে গবেষণা জরুরি।
ফিশারিজ বিভাগের গবেষকদের মতে, জেলিফিশ সাধারণত গভীর সমুদ্রের প্রাণী; পরিবেশগত পরিবর্তন বা বিপর্যয় ঘটলে তারা উপকূলের কাছাকাছি চলে আসে, যা শঙ্কার ইঙ্গিত। কুয়াকাটা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, বালুর নিচে চাপা দিলে দুর্গন্ধের ঝুঁকি কমবে। কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, জেলেদের জালে আটকা পড়ে মারা যাওয়া জেলিফিশ সমুদ্রে ফেলে দেওয়ায় সেগুলো ভেসে এসে বেলাভূমিতে আটকে পড়ছে। কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ইয়াসিন সাদেক বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা ও পরিবেশ সুরক্ষায় মৃত জেলিফিশ দ্রুত অপসারণ করে বালুতে পুঁতে ফেলার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০১০ সালের জানুয়ারিতেও কুয়াকাটা সৈকতে বিপুল সংখ্যক জেলিফিশ ভেসে আসে।
বাংলাদেশ সময়: ২১:১৯:৪২ ● ৩৩ বার পঠিত
