রবিবার ● ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বরগুনা-১ আসন বাবার অপূর্ণ ইচ্ছা পূরণে ছেলের প্রাণপণ চেষ্টা

হোম পেজ » বরগুনা » বরগুনা-১ আসন বাবার অপূর্ণ ইচ্ছা পূরণে ছেলের প্রাণপণ চেষ্টা
রবিবার ● ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


 

মাওলানা মো. মাহমুদুল হাসান অলি উল্লাহ।

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, আমতলী (বরগুনা)

চারবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজিত হওয়া মাওলানা আব্দুর রশিদের বরগুনা-১ আসন থেকে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তার ছেলে মাওলানা মো. মাহমুদুল হাসান অলি উল্লাহ। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে তিনি মাঠে নেমেছেন বাবার বারবার হেরে যাওয়া আসনটি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে। এই আসনে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী ও তিনবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা। এছাড়া ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন এবং জাতীয় পার্টি- জেপির প্রার্থী জামাল হোসাইনও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। প্রার্থী চারজন হলেও ভোটারদের মতে মূল লড়াই হবে অলি উল্লাহ ও বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মোল্লার মধ্যে।

 

জানা গেছে, বরগুনা সদর উপজেলার কেওরাবুনিয়া গ্রামে জন্ম মাওলানা আব্দুর রশিদের। তিনি ‘কেওরাবুনিয়ার পীর’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে এলাকায় ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেন। ১৯৯১ সালে তিনি প্রথমবার বরগুনা-১ আসন থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সে সময় আওয়ামী লীগের প্রার্থী অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর কাছে তিনি পরাজিত হন। ওই নির্বাচনে শম্ভু ৪৪ হাজার ৭২২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হলেও মাওলানা আব্দুর রশিদ পান ২৯ হাজার ৫০৭ ভোট। ১৯৯৬ সালেও একই প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি পরাজিত হন। তখন শম্ভু প্রায় ৫৫ হাজার ভোট এবং রশিদ পান ২৮ হাজার ৪৭৯ ভোট। ওই দুই নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগও রয়েছে।

 

২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগ প্রার্থী ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং সে নির্বাচনেও পরাজিত হন। ২০০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনেও তিনি অংশ নিলেও বিজয়ী হতে পারেননি, যদিও বিএনপির প্রার্থী মতিয়ার রহমানের চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের পাতানো নির্বাচনের অভিযোগ তুলে তিনি আর নির্বাচনে অংশ নেননি। ২০১৮ সালে কেওড়াবুনিয়ার পীর  মাওলানা আব্দুর রশিদের মৃত্যু হয়।

 

বাবার এই পরাজয় মেনে নিতে পারেননি তার ছেলে মাওলানা মো. মাহমুদুল হাসান অলি উল্লাহ। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হন, তবে ওই নির্বাচনে ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু ‘দিনের ভোট রাতে’ গণনার অভিযোগের মধ্য দিয়ে বিজয়ী হন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাবার হেরে যাওয়া আসন থেকে বিজয়ী হওয়ার প্রত্যয়ে আবারও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনয়ন নিয়ে মাঠে নেমেছেন অলি উল্লাহ। জনপ্রিয়তার দিক থেকে তিনি ও বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মোল্লা দুজনই এগিয়ে রয়েছেন এবং জয়ী হতে উভয়েই ব্যাপক গণসংযোগ চালাচ্ছেন।

 

এ আসনে আমতলী, তালতলী ও বরগুনা সদর-এই তিন উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১৯ হাজার ৪৫৯ জন। এর মধ্যে আমতলীতে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৮৪৮, তালতলীতে ৮৭ হাজার ২০ এবং বরগুনা সদরে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৫৯১ জন ভোটার রয়েছে। চারজন প্রার্থীই বরগুনা সদর উপজেলার হওয়ায় আমতলী ও তালতলী উপজেলার ২ লাখ ৭১ হাজার ৮৬৮ ভোটারই মূলত নির্বাচনের নিয়ামক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।

 

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা মো. মাহমুদুল হাসান অলি উল্লাহ সাগরকন্যাকে বলেন, তার বাবা কেওড়াবুনিয়ার পীর হিসেবে সব শ্রেণির মানুষের কাছে সমাদৃত ছিলেন এবং বরগুনা-১ আসন থেকে চারবার নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেন, তিনটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু কারচুপি করে বিজয়ী হন। অলি উল্লাহ বলেন, বাবার হেরে যাওয়া কোনো সন্তানের পক্ষেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। বাবাকে পরিকল্পিতভাবে পরাজিত করা আসন থেকে বিজয়ী হওয়াই তার লক্ষ্য। তিনি আরও জানান, এবার তিন উপজেলার ভোটাররা প্রকৃত অর্থে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন এবং তারা সেই সুযোগ কাজে লাগাবেন। বাবার অপূর্ণ ইচ্ছা পূরণ করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে মানুষের সেবা করাই তার রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য।

বাংলাদেশ সময়: ১৬:১৪:১০ ● ৫২ বার পঠিত