বৃহস্পতিবার ● ২২ জানুয়ারী ২০২৬

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মহাপরিকল্পনা বাতিলের দাবিতে মোংলায় প্রতিবাদ সমাবেশ

হোম পেজ » খুলনা » বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মহাপরিকল্পনা বাতিলের দাবিতে মোংলায় প্রতিবাদ সমাবেশ
বৃহস্পতিবার ● ২২ জানুয়ারী ২০২৬


 

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মহাপরিকল্পনা বাতিলের দাবিতে মোংলায় প্রতিবাদ সমাবেশ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বাগেরহাট

২৫ বছর মেয়াদি জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা (ইপিএসএমপি-২০২৫) অনুমোদনের প্রাক্কালে এর বাতিলের দাবিতে বাগেরহাটের মোংলায় প্রতিবাদ সমাবেশ, র‍্যালি ও অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) মোংলার কানাইনগর পশুর নদীর পাড়ে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

বাংলাদেশের প্রতিবেশ ও উন্নয়ন কর্মজোট (বিডব্লিউজিইডি), মোংলা নাগরিক সমাজ, প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম-মোংলা এবং উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন)-এর যৌথ আয়োজনে কর্মসূচিগুলো অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবাদ সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন মোংলা নাগরিক সমাজের সভাপতি মো. নূর আলম শেখ।

সমাবেশে বক্তব্য দেন পরিবেশযোদ্ধা আব্দুর রশিদ হাওলাদার, হাছিব সরদার, মোংলা নাগরিক সমাজের সহসাধারণ সম্পাদক কমলা সরকার, জেলে সমিতির নেতা শাহাদাত ব্যাপারী, জাহিদ হোসেন এবং প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম মোংলার মেহেদী হাসানসহ অন্যরা।

সভাপতির বক্তব্যে মো. নূর আলম শেখ বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের খসড়া জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা (২০২৬-২০৫০) প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় জনসাধারণ, নাগরিক সমাজ ও স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে। কোনো জনশুনানি বা উন্মুক্ত পরামর্শ ছাড়াই এ গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা পূর্ববর্তী স্বৈরাচারী সরকারের অস্বচ্ছ ও দায়মুক্তিমূলক নীতি প্রণয়নের পুনরাবৃত্তি। তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব ছিল নিয়মিত রাষ্ট্র পরিচালনা নিশ্চিত করা; কিন্তু সেই সীমা অতিক্রম করে দীর্ঘমেয়াদি ও উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ জ্বালানি পরিকল্পনা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এমনকি উচ্চ আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কোনো অর্থবহ অংশগ্রহণমূলক পরামর্শ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।

তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে যেভাবে দ্রুত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন ব্যবহার করে বিতর্কিত প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, ইপিএসএমপি ২০২৫ একই ধারায় জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভর প্রকল্পকে বৈধতা দেওয়ার কাঠামো তৈরি করছে।

সমাবেশে কমলা সরকার বলেন, মহাপরিকল্পনায় ‘এনার্জি ট্রানজিশন’ শব্দটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হলেও বাস্তবে প্রকৃত নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ মাত্র ১৭ শতাংশ, যেখানে কাগজে দেখানো হয়েছে ৪৪ শতাংশ। তিনি জানান, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতা ১৫.৮ গিগাওয়াট থেকে বাড়িয়ে ২৫.২ গিগাওয়াট করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২৫ বছর পরও এলএনজি, কয়লা ও তেলের ওপর নির্ভরতা থাকবে প্রায় ৫০ শতাংশ, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ এবং ভবিষ্যতে দেশকে ঋণ, ভর্তুকি ও পরিবেশগত সংকটে ফেলবে। তিনি বলেন, এই পরিকল্পনা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ঘোষিত ‘শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য কার্বন’ দর্শনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। পাশাপাশি শ্রমিক পুনর্বাসন, নারী ও লিঙ্গভিত্তিক ন্যায্যতা, কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পোশাক খাতের সবুজায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো পরিকল্পনায় উপেক্ষিত রয়েছে।

কর্মসূচি থেকে চার দফা দাবি জানানো হয়- (১) অবিলম্বে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা ২০২৫ (ইপিএসএমপি ২০২৫) স্থগিত ও সম্পূর্ণ বাতিল করতে হবে; (২) নাগরিক সমাজ, বিশেষজ্ঞ ও সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণে স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরামর্শ প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে; (৩) জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বাস্তবসম্মত ১’শ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানির রোডম্যাপ প্রণয়ন করতে হবে; এবং (৪) ন্যায্য, সামাজিকভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি রূপান্তরের ভিত্তিতে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

কর্মসূচিতে জীবাশ্ম জ্বালানি বিরোধী বিভিন্ন পোস্টার ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করা হয়। পরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে একটি র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ সময়: ১৬:৫৮:২৬ ● ২২ বার পঠিত