শনিবার ● ২৯ নভেম্বর ২০২৫
মহিপুরে ট্রলার মালিকের পরকীয়ায় জেলের সংসারে ভাঙন!
হোম পেজ » পটুয়াখালী » মহিপুরে ট্রলার মালিকের পরকীয়ায় জেলের সংসারে ভাঙন!![]()
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, মহিপুর (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর মৎস্যবন্দর মহিপুরে পরকীয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক সন্তানের জননী শারমিনের সংসার ভাঙন এবং স্বামীকে মারধরের ঘটনা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। অভিযোগ উঠেছে, ট্রলার মালিক আল-আমিনের সঙ্গে স্ত্রীকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলায় কথা বলা নিয়ে স্বামী মোতালেবকে মারধর করে তালাক দিতে বাধ্য করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৪ নভেম্বর রাতে মহিপুর থানার লতাচাপলী ইউনিয়নের মাইটভাঙ্গা গ্রামে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী জেলে মোতালেব সম্প্রতি লতাচাপলী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
মোতালেব সাংবাদিকদের জানান, আট বছর আগে ইসলামি শরীয়াহ মোতাবেক শারমিনকে তিনি বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। সংসার চালাতে স্থানীয় একটি ট্রলারে জেলের কাজ নেন। সেই সূত্রে ট্রলার মালিক আল-আমিনের যাতায়াত ছিলো তার শ্বশুরবাড়িতে। অভিযোগ, এ সুযোগে আল-আমিন ও শারমিনের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
জেলে মোতালেব আরও দাবি করেন, গত ১৪ নভেম্বর রাতে ঘরে প্রবেশ করলে স্ত্রী ও ট্রলার মালিককে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান। প্রতিবাদ জানালে শ্বশুর, স্ত্রী ও আল-আমিন মিলে তাকে মারধর করেন। পরে চাপের মুখে তালাক দিতে বাধ্য করা হয়। পাঁচ বছরের উপার্জনের টাকা দিয়ে নিজে শ্বশুরবাড়িতে ঘর তুলেছেন বলে দাবি করেন মোতালেব। তার ভাষায় তিনি এখন শূন্য।
ওই গ্রামের কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাগরকন্যাকে জানান, বিয়ের আগেও শারমিন একাধিক সম্পর্কে জড়িয়েছেন। এসব আচরণে ক্ষুব্ধ তার নিকট আত্মীয়রাও।
মোতালেবের অভিযোগের বিষয়ে শারমিন বলেন, স্বামী বিভিন্ন সময় আমাকে মারধর করতেন এবং সংসারের খরচ দিতেন না। বোট মালিক মাঝে মাঝে বাসায় আসতেন, এটিকে তিনি সন্দেহের চোখে দেখে আমাকে নির্যাতন করতেন। শারমিনের বাবা বলেন, বোট মালিক মাঝেমধ্যে আসত, এতে জামাই সন্দেহ করতেন। মেয়েকে (শারমিন) মারধরের খবর পেয়ে রাগের মাথায় আমি তাকে (জামাতা) দুটো থাপ্পড় মারি, এর বেশি কিছু না।
তবে সরেজমিনে ট্রলার মালিক আল-আমিনের ওই বাড়িতে যাতায়াতের বিষয়টি স্থানীয় লোকজনের মুখে মুখে রয়েছে। এবিষয়ে তার মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনো সাড়া মেলেনি।
মহিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মাহমুদ হাসান বলেন, এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ সময়: ১৭:৫৬:০০ ● ৫৩৫ বার পঠিত
