বৃহস্পতিবার ● ৫ নভেম্বর ২০২৬

জাল রেজুলেশনে পদোন্নতি, ৮ বছর ধরে সহকারী অধ্যাপকের বেতন উত্তোলনের অভিযোগ

হোম » পটুয়াখালী » জাল রেজুলেশনে পদোন্নতি, ৮ বছর ধরে সহকারী অধ্যাপকের বেতন উত্তোলনের অভিযোগ
বৃহস্পতিবার ● ৫ নভেম্বর ২০২৬


আট বছর ধরে সহকারী অধ্যাপকের বেতন উত্তোলনের অভিযোগ, ফেরত দিতে বলা হয়েছে অতিরিক্ত টাকাসাগরকন্যা প্রতিবেদক, দশমিনা (পটুয়াখালী)

 

পটুয়াখালীর দশমিনা সরকারি আব্দুর রশিদ তালুকদার কলেজের কারিগরি শাখার ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক মো. আনিচুর রহমানের বিরুদ্ধে রেজুলেশন জালিয়াতি করে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি নেওয়া এবং প্রায় আট বছর ধরে ওই পদের বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) তদন্তে পদোন্নতিতে অনিয়মের বিষয়টি উঠে আসার পর তাঁর বেতন প্রভাষক পদ অনুযায়ী নির্ধারণ এবং অতিরিক্ত উত্তোলিত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরতের নির্দেশ দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন কলেজের জ্যেষ্ঠ শিক্ষকরা।

 

কলেজ সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৩০ জুন কলেজের বেসরকারি আমলের সর্বশেষ রেজুলেশনের স্বাক্ষর জাল করে ডুপ্লিকেট রেজুলেশন তৈরির মাধ্যমে ২০১৯ সালে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি নেন আনিচুর রহমান। এ নিয়ে আপত্তি ওঠার পর মাউশির তদন্তে পদোন্নতিসংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়টি উঠে আসে। এ ঘটনায় সহযোগিতার অভিযোগে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ দুই শিক্ষককে তিন মাসের ‘স্টপ পেমেন্ট’ শাস্তি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আনিচুর রহমানের বেতন প্রভাষক পদ অনুযায়ী নির্ধারণ এবং অতিরিক্ত উত্তোলিত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরতের নির্দেশ দেওয়া হয়।

 

মাউশির ২০২৩ সালের ৭ ফেব্রুয়ারির তদন্তসংশ্লিষ্ট স্মারক এবং একই বছরের ২৮ ডিসেম্বরের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও অর্থ ফেরত নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০২৫ সালের ২৫ আগস্ট কলেজে শিক্ষা অডিট অধিদপ্তরের অডিট কার্যক্রমেও বিষয়টি উঠে আসে। পরবর্তী সময়ে ২০২৬ সালের ৮ জানুয়ারির অডিট প্রতিবেদন এবং ১২ জুলাই পুনরায় পাঠানো নির্দেশনায় আনিচুর রহমানের বেতন প্রভাষক পদে নির্ধারণ ও অতিরিক্ত উত্তোলিত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরতের নির্দেশ দেওয়া হয়।

 

কলেজের প্রভাষক মো. মাহমুদুল্লাহ বলেন, ২০১৯ সালেই রেজুলেশনসংক্রান্ত অনিয়ম ধরা পড়ে। এ নিয়ে আদালতে মামলা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও মাউশির তদন্তেও পদোন্নতিতে অনিয়মের বিষয়টি উঠে এসেছে। অডিট প্রতিবেদনে অর্থ ফেরতের সুপারিশ করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

 

জ্যেষ্ঠ শিক্ষক আমিনুল হক বলেন, তিনি বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন। বিধি অনুযায়ী পদোন্নতির বিষয়টি নিষ্পত্তি করে প্রভাষক পদে বেতন নির্ধারণ এবং সরকারি কোষাগারে টাকা ফেরতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন চান তিনি।

 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মো. আনিচুর রহমান বলেন, পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জনের পর তিনি আবেদন করেছেন এবং কর্তৃপক্ষ তাঁকে পদোন্নতি দিয়েছে। কারিগরি শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাঁর কাগজপত্র যাচাই করে কোনো অনিয়ম পায়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

 

কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ অধ্যাপক গাজী সবুজ আহমেদ বলেন, সরকারি অর্থের বিষয়টি সরকার দেখবে। এ নিয়ে সাংবাদিক, ব্যক্তিগত ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠানের কিছু যায়-আসে না। মাউশির তদন্তের পর বিষয়টি কারিগরি শিক্ষা বোর্ডেও পাঠানো হয়েছিল। সেখান থেকে বিধি অনুযায়ী পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে মর্মে চিঠি পেয়েছেন। অডিট আপত্তির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক জবাব দিয়ে তা নিষ্পত্তি করতে পারবেন। তা না হলে মহাপরিচালকের কাছে বিষয়টি জানানো হবে।

 

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের বরিশাল অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তিনি নতুন যোগদান করেছেন। খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য জানাতে পারবেন।

 

কলেজের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক-কর্মচারীদের অভিযোগ, অডিট আপত্তি বাস্তবায়ন না হওয়ায় সরকারের প্রায় ২০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দ্রুত অডিট আপত্তি নিষ্পত্তি, অতিরিক্ত উত্তোলিত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

বাংলাদেশ সময়: ১৮:১৬:৫৪ ● ৩৪ বার পঠিত