বুধবার ● ৪ নভেম্বর ২০২৬

সুন্দরবনসংলগ্ন ১৮ রিসোর্ট পরিদর্শন, অবৈধ স্থাপনা বন্ধের হুঁশিয়ারি প্রতিমন্ত্রীর

হোম » পর্যটন » সুন্দরবনসংলগ্ন ১৮ রিসোর্ট পরিদর্শন, অবৈধ স্থাপনা বন্ধের হুঁশিয়ারি প্রতিমন্ত্রীর
বুধবার ● ৪ নভেম্বর ২০২৬


 

সুন্দরবনসংলগ্ন ১৮ রিসোর্ট পরিদর্শন, অবৈধ স্থাপনা বন্ধের হুঁশিয়ারি প্রতিমন্ত্রীর

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বাগেরহাট

 

বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনসংলগ্ন অনুমোদনহীন ১৮টি ইকো-রিসোর্ট পরিদর্শন করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম। এসব রিসোর্টের কার্যক্রমে সুন্দরবনের পরিবেশ, বন্যপ্রাণী ও প্রাণ-প্রকৃতির ক্ষতি হচ্ছে কি না, তা সরেজমিনে যাচাই করেন তিনি। পরিদর্শনে কোনো অবৈধ স্থাপনা বা পরিবেশের ক্ষতিকর কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

 

বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের ঢাংমারী স্টেশনের আওতাধীন বনসংলগ্ন ১৮টি ইকো-রিসোর্ট পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় পরিবেশ অধিদপ্তর খুলনার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বন বিভাগের বাগেরহাট ও মোংলা অঞ্চলের কর্মকর্তারা তাঁর সঙ্গে ছিলেন।

 

পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে আমরা দেখেছি, পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকার (ইসিএ) নিয়ম ভেঙে অবৈধভাবে একাধিক রিসোর্ট গড়ে তোলা হয়েছে। এখানে কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ড ঘটছে কি না এবং সুন্দরবনের পরিবেশ, নিরাপত্তা কিংবা প্রাণ-প্রকৃতির ক্ষতি হচ্ছে কি না, তা দেখতেই আমার এ আগমন।’

 

তিনি বলেন, বনের সার্বিক নিরাপত্তা ও পরিবেশ রক্ষা সরকারের অগ্রাধিকার। শব্দদূষণ রোধে জেনারেটরের পরিবর্তে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। শব্দদূষণ, বন্যপ্রাণী ও হরিণ শিকার কিংবা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কোনো কর্মকাণ্ড এবং অবৈধ স্থাপনা পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে।

 

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আপাতত রিসোর্টগুলো ঘুরে কোনো প্রত্যক্ষ ক্ষতি চোখে পড়েনি। তবে মন্ত্রণালয়ে ফিরে পর্যালোচনা বৈঠকের পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

 

উল্লেখ্য, পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া এবং প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) বিধিমালা লঙ্ঘন করে গড়ে ওঠার অভিযোগে গত ৪ অক্টোবর পরিবেশ অধিদপ্তর খুলনা জেলা কার্যালয় থেকে এসব রিসোর্ট বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।

 

খুলনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. হারুন-অর-রশীদ স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে সুন্দরবনসংলগ্ন দাকোপের ঢাংমারী, কৈলাসগঞ্জ ও বাণিশান্তা এলাকার ১৮টি রিসোর্টের কার্যক্রম বন্ধ এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

 

রিসোর্টগুলো হলো অরণ্যছায়া, অরণ্যবাড়ী, কেওড়াবন, মায়াবন, গহন, দ্য ফরেস্ট রিট্রিট, নিকুঞ্জ ভ্যালি, লা সিলভা কটেজ, বনবিবি, সুন্দরী, ইরাবতী, বনমালী, গোলকানন, পিয়ালী, ম্যানগ্রোভ, জঙ্গলবাড়ী, বনবাস ও বনলতা ইকো কটেজ।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, সুনির্দিষ্ট নীতিমালার অভাব এবং বন বিভাগ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের পর্যাপ্ত তদারকি না থাকায় মোংলা ও দাকোপ সীমান্তবর্তী এলাকায় একের পর এক বাণিজ্যিক রিসোর্ট গড়ে উঠেছে। প্রতিমন্ত্রীর সরেজমিন পরিদর্শনের পর এখন মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ সময়: ১৯:২৪:২৫ ● ২৫ বার পঠিত