বুধবার ● ২৮ অক্টোবর ২০২৬

মন্দিরের জমি দখলের অভিযোগ মিথ্যা দাবি শফিকুলের

হোম » পিরোজপুর » মন্দিরের জমি দখলের অভিযোগ মিথ্যা দাবি শফিকুলের
বুধবার ● ২৮ অক্টোবর ২০২৬


মন্দিরের জমি দখলের অভিযোগ মিথ্যা দাবি শফিকুলেরসাগরকন্যা প্রতিবেদক, নেছারাবাদ (পিরোজপুর)

 

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সমুদয়কাঠীতে দক্ষিণপাড়া সর্বজনীন শ্রীশ্রী শীতলা মন্দিরের কাজে ব্যবহৃত জমি দখলের অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করেছেন মো. শফিকুল ইসলাম। এ ঘটনায় নিজের অবস্থান তুলে ধরে প্রশাসনের কাছে আইনি সহযোগিতা ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়েছেন তিনি।

 

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে স্বরূপকাঠি প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব দাবি করেন শফিকুল ইসলাম।

 

শফিকুল ইসলাম হাওলাদার নেছারাবাদ উপজেলার সমুদয়কাঠী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের জামায়াতে ইসলামীর কর্মী। তিনি ওই এলাকার মৃত আব্দুর রহমান হাওলাদারের ছেলে।

 

লিখিত বক্তব্যে শফিকুল ইসলাম নিজেকে জামায়াতে ইসলামীর একজন সাধারণ কর্মী দাবি করে বলেন, একটি মহল তাঁকে ‘জামায়াত নেতা’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে সাংবাদিকদের ভুল তথ্য দিচ্ছে। এর মাধ্যমে তাঁর ব্যক্তিগত ও দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

জমির মালিকানা প্রসঙ্গে শফিকুল ইসলাম বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। তাঁর দাবি, স্থানীয় কেউ ওই জমি মন্দিরের নামে থাকার পক্ষে বৈধ কাগজপত্র বা দলিল দেখাতে পারেননি। তিনি ওই এলাকার সমীর রঞ্জন আইচের কাছ থেকে দলিলমূলে জমিটি কিনেছেন। পরে পিরোজপুরের বিজ্ঞ জজ আদালতের ডিক্রি পেয়ে আইন অনুযায়ী নিজের নামে জমিটি রেকর্ডভুক্ত করেন। এরপর থেকে তিনি শান্তিপূর্ণভাবে জমিটি ভোগদখল ও চাষাবাদ করে আসছেন।

 

শফিকুল ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষ ২০২৫ সালের ডিসেম্বর ও ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তাঁর ভোগদখলীয় জমি থেকে জোরপূর্বক ফসল নিয়ে যায়। এ ঘটনায় তিনি পিরোজপুরের আদালতে এমপি ৩৩৯/২৫ ও সিআর ৩৮/২৬ নম্বরে দুটি মামলা করেছেন। মামলা দুটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।

 

সংবাদ সম্মেলনে শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষ টুটুল আইচের নেতৃত্বে তাঁর জমিতে শীতলা মন্দিরের সাইনবোর্ড টাঙিয়ে তাঁকে উচ্ছেদের চেষ্টা চলছে। তাঁকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে তিনি ও তাঁর পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ অবস্থায় প্রশাসনের কাছে যথাযথ আইনি সহযোগিতা ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

 

তবে শফিকুল ইসলামের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন টুটুল আইচ। তিনি বলেন, সমীর রঞ্জন আইচ তাঁদের বংশের লোক। শফিকুল ইসলাম যদি তাঁর কাছ থেকে মন্দিরের কাজে ব্যবহৃত জমি কিনে থাকেন, তাহলে রেজিস্ট্রিকৃত বৈধ দলিল দেখালে তাঁরা ওই জমির ওপর কোনো দাবি রাখবেন না।

 

টুটুল আইচ পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, তাঁরা শফিকুল ইসলামকে কোনো ধরনের হুমকি দিচ্ছেন না; বরং শফিকুল ইসলামই তাঁদের ধারাবাহিকভাবে হুমকি দিয়ে আসছেন।

 

জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে বিরোধ অব্যাহত রয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ২১:১৭:৩৭ ● ৩৩ বার পঠিত