বুধবার ● ২৮ অক্টোবর ২০২৬

বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে পৌর টোলের নামে অর্থ আদায়

হোম » বরিশাল » বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে পৌর টোলের নামে অর্থ আদায়
বুধবার ● ২৮ অক্টোবর ২০২৬


বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে পৌর টোলের নামে অর্থ আদায়সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরিশাল

 

সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের বেলাভূমি, ‘সাগরকন্যা’ খ্যাত পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা। পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ১৮ কিলোমিটার উপকূলজুড়ে বিস্তৃত দেশের অন্যতম এই পর্যটনকেন্দ্রে সড়কপথে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক। প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক এই মহাসড়ক দিয়ে কুয়াকাটায় যাতায়াত করেন। তবে মহাসড়কটি সরু হওয়ার পাশাপাশি পাঁচটি স্থানে সিটি ও পৌর টোলের নামে অর্থ আদায় করায় ক্ষোভ বাড়ছে পর্যটক, পরিবহনচালক ও সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে।

 

সরেজমিনে দেখা গেছে, বরিশাল থেকে কুয়াকাটা যেতে একটি পরিবহনকে পাঁচটি স্থানে মোট ৪০০ টাকা টোল দিতে হচ্ছে। পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হিসাবে, বিভিন্ন স্থানে আদায় করা টোলের কারণে গাড়িপ্রতি অতিরিক্ত ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ৫০০ টাকা। তাঁদের অভিযোগ, যাত্রী থাকুক বা না থাকুক, সংশ্লিষ্ট পৌরসভার বাস টার্মিনাল ব্যবহার করা হোক বা না হোক, টোল না দিয়ে চলাচলের সুযোগ নেই।

 

পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, বরিশালের রূপাতলী বাসস্ট্যান্ডে সিটি টোলের নামে ৫০ টাকা, পটুয়াখালী বাস টার্মিনালে ১০০ টাকা, আমতলী পৌর এলাকায় ১০০ টাকা, কলাপাড়ায় ৫০ টাকা এবং কুয়াকাটা পৌরসভার টোলের নামে ১০০ টাকা আদায় করা হয়। তাঁদের দাবি, টোল দিতে অস্বীকৃতি জানালে গাড়ি আটকে দেওয়া হয় এবং চালক ও সুপারভাইজারদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা হয়। টোল আদায়ের সময় রসিদ দেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে তাতে স্বাক্ষর থাকে না।

 

তাঁরা আরও জানান, গাড়িপ্রতি অতিরিক্ত টোলের কারণে পরিবহন পরিচালনার ব্যয় বাড়ছে। এ ব্যয় সামাল দিতে ভাড়া বাড়াতে হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে পর্যটক ও সাধারণ যাত্রীদের ওপর।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা থেকে কুয়াকাটা যেতে দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বার গৌরনদী পৌরসভার ওপর দিয়ে পরিবহন চলাচল করে। সেখানে বাস টার্মিনাল থাকলেও মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী পরিবহনকে কোনো টোল বা চাঁদা দিতে হয় না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

 

গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার প্রশাসক মো. ইব্রাহীম বলেন, ‘মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী পরিবহন থেকে পৌর টোল নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এমনকি উজিরপুর ও বাকেরগঞ্জ পৌরসভার ওপর দিয়ে পরিবহন যাতায়াত করলেও কাউকে কোনো টোল দিতে হয় না।’

 

অন্যদিকে রূপাতলী, পটুয়াখালী, আমতলী, কলাপাড়া ও কুয়াকাটায় পরিবহন চলাচলের সময় টোল আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

 

গত ২২ অক্টোবর গৌরনদী প্রেস ক্লাবের ফ্যামিলি ডে উপলক্ষে সদস্যদের পরিবারের সঙ্গে কুয়াকাটা পর্যটনকেন্দ্রে গিয়েছিলেন সংগঠনটির সভাপতি জহুরুল ইসলাম জহির। ফেরার পথে তাঁদের বহনকারী গাড়ি থেকেও পৌর টোল আদায় করা হয় বলে জানান তিনি।

 

জহুরুল ইসলাম জহির বলেন, ‘মহাসড়কে এভাবে গাড়ি থামিয়ে পৌর টোল আদায় কোনোভাবেই কাম্য নয়।’

 

বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী বলেন, ‘রূপাতলী বাস টার্মিনাল এক বছরের জন্য ইজারা দেওয়া হয়েছে। বাস টার্মিনালের বাইরে সড়ক থেকে কাউকে টোল আদায়ের অনুমতি দেওয়া হয়নি। সিটি টোলের নামে চাঁদা আদায়ে আমরা কাউকে সড়ক ইজারা দিইনি।’

 

আমতলী পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন বলেন, ‘মহাসড়কে যানবাহন থেকে পৌর টোল আদায় বন্ধে আমরা গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছি। এর পরও কেউ টোল আদায় করে কি না, তা জানা নেই। তবে কেউ টোল আদায় করলে খোঁজখবর নিয়ে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।’

 

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

 

কলাপাড়া পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা কাব্য লাল চক্রবর্তী বলেন, ‘শুধু কলাপাড়া বাসস্ট্যান্ড ইজারা দেওয়া হয়েছে। মহাসড়ক কাউকে ইজারা দেওয়া হয়নি। মহাসড়কে বাস থামিয়ে টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’

 

কুয়াকাটা পৌরসভার টোল আদায়ের বিষয়ে বক্তব্য জানতে পৌরসভার ওয়েবসাইটে যোগাযোগের নম্বর খুঁজেও পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

 

বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ বলেন, ‘মহাসড়কে যানবাহন থামিয়ে টোল আদায়ের সুযোগ নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বাংলাদেশ সময়: ১৫:১৯:০৮ ● ৩১ বার পঠিত