মঙ্গলবার ● ২৭ অক্টোবর ২০২৬

প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষক-শিক্ষার্থী নেই, চাবি প্রতিবেশীর বাড়িতে, প্রধান শিক্ষককে তলব

হোম » শিক্ষা » প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষক-শিক্ষার্থী নেই, চাবি প্রতিবেশীর বাড়িতে, প্রধান শিক্ষককে তলব
মঙ্গলবার ● ২৭ অক্টোবর ২০২৬


 

প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষক-শিক্ষার্থী নেই, চাবি প্রতিবেশীর বাড়িত, প্রধান শিক্ষককে তলব

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, ভোলা

 

দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিট। বিদ্যালয় খোলা থাকার কথা, চলার কথা পাঠদান। কিন্তু বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী কাউকেই পাওয়া গেল না। বিদ্যালয়ের চাবি রাখা ছিল পাশের বাড়ির এক ব্যক্তির কাছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শিক্ষকরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন না। এ কারণে সন্তানদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সরিয়ে পাশের মাদরাসায় ভর্তি করেছেন অভিভাবকরা।

 

সোমবার (২৬ অক্টোবর) ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ মুজিবনগর ইউনিয়নের ১৮২ নম্বর সিকদারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে এমন চিত্র দেখতে পান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ।

 

একই ইউনিয়নের চরলিউলিন বাংলাবাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উপস্থিতি নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ আরও দুই শিক্ষক প্রায়ই অনুপস্থিত থাকেন। তাঁরা রাজনীতিতে জড়িত থাকায় পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলেও দাবি স্থানীয়দের।

 

সিকদারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপস্থিতি এবং বিদ্যালয়ের চাবি অন্যের কাছে রাখার ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করেছেন ইউএনও রুমানা আফরোজ। এ ঘটনায় বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাইনুদ্দীন সোহাগের কাছে কৈফিয়ত তলব করেছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়।

 

সোমবার জারি করা চিঠিতে বলা হয়েছে, ওই দিন দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিদ্যালয়টি পরিদর্শনে গিয়ে শিক্ষকদের উপস্থিত পাননি। এ বিষয়ে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

চিঠিতে সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) চাকরি বিধিমালা, ২০১৯-এর বিধান উল্লেখ করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

 

চরফ্যাশন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, সিকদারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের অনুপস্থিতির ঘটনায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাইনুদ্দীন সোহাগের কাছে কৈফিয়ত চাওয়া হয়েছে। আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জবাব পর্যালোচনা করে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

 

ইউএনও রুমানা আফরোজ জানান, মুজিবনগর ইউনিয়নের দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছেন তিনি। ওইদিন দুপুর পৌনে ১টায় সিকদারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে কোনো শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে পাননি। বিদ্যালয়ের চাবি পাশের বাড়ির একজনের কাছে রাখা ছিল। স্থানীয়দের কাছ থেকেও শিক্ষকদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে না আসার অভিযোগ পেয়েছেন তিনি।

 

রুমানা আফরোজ বলেন, ‘এমন পরিস্থিতি অত্যন্ত হতাশাজনক। সরকারি বিদ্যালয়ে এভাবে পাঠদান কার্যক্রম চলতে পারে না।’ শিক্ষার্থীদের সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশ সময়: ১৯:২৪:১১ ● ২৭ বার পঠিত