মঙ্গলবার ● ২৭ অক্টোবর ২০২৬

সুন্দরবনে কয়লাবোঝাই জাহাজ ডুবি, বাঘের গর্জনের মধ্যে বাঁচলেন ১১ নাবিক

হোম » খুলনা » সুন্দরবনে কয়লাবোঝাই জাহাজ ডুবি, বাঘের গর্জনের মধ্যে বাঁচলেন ১১ নাবিক
মঙ্গলবার ● ২৭ অক্টোবর ২০২৬


 

সুন্দরবনে কয়লাবোঝাই জাহাজ ডুবি, বাঘের গর্জনের মধ্যে বাঁচলেন ১১ নাবিক

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বাগেরহাট

 

সুন্দরবনের সুন্দরী কোঠা এলাকায় অপর একটি জাহাজের ধাক্কায় ১ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন কয়লাবোঝাই ‘এমভি ফুলবাড়ী’ নামের একটি কার্গো জাহাজ ডুবে গেছে। সোমবার রাত ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। জাহাজটি ডুবে যাওয়ার পর সুন্দরবনের চরে আশ্রয় নিয়ে বাঘের গর্জনের মধ্যে আতঙ্কে রাত কাটান জাহাজটির ১১ জন নাবিক ও কর্মী। পরে অন্য একটি জাহাজের সহায়তায় তাঁদের উদ্ধার করা হয়।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মোংলা বন্দরের ফেয়ারওয়ে বয়া সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের হিরণ পয়েন্টে অবস্থানরত বিদেশি বাণিজ্যিক মাদার ভেসেল ‘ইয়াস জুপিটার’ থেকে ১ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন কয়লা বোঝাই করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছিল এমভি ফুলবাড়ী। পথে সুন্দরবনের সুন্দরী কোঠা এলাকায় পৌঁছালে ‘ওটি জান্নাতুল ফেরদৌস’ নামের অপর একটি কার্গো জাহাজ পেছন বা পাশ থেকে সেটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে মুহূর্তের মধ্যে কয়লাবোঝাই জাহাজটি পানিতে তলিয়ে যায়।

 

দুর্ঘটনার শিকার জাহাজটির মাস্টার মো. সুজন বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর জাহাজটি ডুবে গেলে আমরা সাঁতরে সুন্দরবনের চরে উঠি। সেখানে অবস্থান করার সময় বাঘের গর্জন শুনতে পাই। অত্যন্ত আতঙ্কের মধ্যে আমাদের সেই সময় কাটাতে হয়।’

 

পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে ‘এমভি রানিয়া-১৩’ নামের একটি জাহাজের সহায়তায় তাঁদের উদ্ধার করা হয়।

 

উদ্ধারকারী জাহাজটির ক্যাপ্টেন মো. তুহিন ইসলাম বলেন, রাত ১১টার দিকে বেতারবার্তার মাধ্যমে জাহাজ দুর্ঘটনার খবর জানতে পারেন তাঁরা। এরপর ঘটনাস্থলে গিয়ে নাবিকদের উদ্ধার করেন।

 

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে উদ্ধার হওয়া নাবিকদের বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের মোংলা শাখা কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়।

 

বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সমাজকল্যাণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী জানান, উদ্ধার হওয়া নাবিকেরা বর্তমানে নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যালয়ে অবস্থান করছেন। দুর্ঘটনার ঘটনায় তাঁরা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেবেন। পাশাপাশি ডুবে যাওয়া জাহাজটি উদ্ধারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

আনোয়ার হোসেন চৌধুরী আরও দাবি করেন, দুর্ঘটনার কারণে বন্দরের চ্যানেলে নৌযান চলাচল ব্যাহত হয়নি এবং চ্যানেলটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।

 

উদ্ধার হওয়া ১১ নাবিক ও কর্মী হলেন মাস্টার মো. সুজন, ড্রাইভার প্রশান্ত চন্দ্র শীল, সুকানি মো. শাকিল, গ্রিজার প্রসেসজিৎ রায়, লস্কর মেহেদী হাসান বাপ্পি, মো. হোসেন মোল্লা, মোহাম্মদ অলিউল্লাহ, মো. সোহান শেখ, বাবুর্চি মোহাম্মদ লিটু শেখ, নয়ন শেখ ও গার্ড অনিল চন্দ্র সানা।

বাংলাদেশ সময়: ১২:৪৮:৪২ ● ২১ বার পঠিত