মঙ্গলবার ● ২৭ অক্টোবর ২০২৬

আইজিপির ক্রসফায়ার বক্তব্য আতঙ্কজনক, সরকারকে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি মামুনুলের

হোম » রাজনীতি » আইজিপির ক্রসফায়ার বক্তব্য আতঙ্কজনক, সরকারকে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি মামুনুলের
মঙ্গলবার ● ২৭ অক্টোবর ২০২৬


আইজিপির ক্রসফায়ার বক্তব্য আতঙ্কজনক, সরকারকে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি মামুনুলের। ছবি- সংগৃহীত

সাগরকন্যা প্রতিবেদক

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) বক্তব্যকে আতঙ্কজনক আখ্যা দিয়ে সরকারের প্রতি কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক। তিনি বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার সর্বোচ্চ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি কীভাবে বিচারবহির্ভূত ক্রসফায়ারের মতো বিষয়ে বক্তব্য দিতে পারেন, তা নিয়ে তাঁরা স্তম্ভিত। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তাঁরা উদ্বিগ্ন।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন মামুনুল হক।

ঘোষিত লং মার্চ ঘিরে কোনো পক্ষ অপতৎপরতা চালালে তা প্রতিহত করে কর্মসূচি সফল করার ঘোষণা দেন তিনি। মামুনুল হক বলেন, দূরপাল্লার এই লং মার্চকে কেন্দ্র করে কোনো পক্ষ অপতৎপরতা চালাবে না বলে তাঁরা আশা করছেন। তবে এ ধরনের কোনো অপতৎপরতা নজরে এলে তা প্রতিহত করেই লং মার্চ সফল করা হবে।

বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের প্রাণের দাবি আদায়ে ঘোষিত কর্মসূচিতে সব দেশপ্রেমিক নাগরিককে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, সকাল ৭টায় বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে উদ্বোধনী সমাবেশ হবে। সেখান থেকে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে লং মার্চ কুষ্টিয়ায় গিয়ে শেষ হবে। বাংলাদেশের চলমান সংকটগুলো যথাযথ প্রক্রিয়ায় সমাধানে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।

সরকারের প্রতি অসন্তোষ জানিয়ে মামুনুল হক বলেন, সংসদের ভেতরে ও বাইরে বিরোধী দল সরকারকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। সহনশীল কর্মসূচিও পালন করা হয়েছে। কিন্তু বিরোধী দলের সহযোগিতা গ্রহণের উপযুক্ত মানসিকতা সরকারের মধ্যে দেখা যাচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে জনগণের অধিকার আদায়ে প্রয়োজনে আরও কঠোর হওয়ার বার্তা দিচ্ছেন তাঁরা।

তিনি বলেন, ‘জনগণের ক্ষমতা নিয়ে আপনারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বসেছেন। তাই জনগণের মনোভাব, ইচ্ছা ও অভিপ্রায় অনুধাবন করার চেষ্টা করুন। অন্যথায় পরিণাম ভালো হবে না।’

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সংশয়:

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে বলে জানান মামুনুল হক। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশনের সচিব পর্যায়ে দলীয় লোক নিয়োগের মাধ্যমে সরকার নির্লজ্জ ভূমিকা পালন করেছে।

ঠাকুরগাঁওয়ে অনুষ্ঠাতব্য উপনির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। মামুনুল হক বলেন, নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে তাঁরা চুপ করে বসে থাকবেন না। জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় যেকোনো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

নির্বাচন কমিশন ও সরকারের বর্তমান ভূমিকার কারণে শিগগিরই কমিশনের বিরুদ্ধে বড় ধরনের কর্মসূচি দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি। নির্বাচন কমিশনের শুভবুদ্ধির উদয় না হলে তাঁরা সে পথে হাঁটতে বাধ্য হবেন বলেও জানান।

প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে প্রশ্ন:

প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক রাষ্ট্রীয় সফরের সফরসঙ্গী ও আয়োজন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মামুনুল হক। তিনি বলেন, ওই সফরে এমন ব্যক্তিদের নেওয়া হয়েছে, যাঁদের রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিত্ব করার যোগ্যতা কিংবা রাষ্ট্রীয় প্রটোকলের আওতায় থাকার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফরকে ঘোরাফেরা ও বিনোদনের সফরে পরিণত করার মতো আয়োজন দেখা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশ কোথায় যাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী কাদের নিয়ে দেশ পরিচালনা করছেন এবং দেশ কোন দিকে অগ্রসর হচ্ছে, তা নিয়ে জাতির মধ্যে সংশয় তৈরি হচ্ছে। এসব বিষয়ে সরকার চিন্তাভাবনা করে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে বলে তাঁরা আশা করছেন।

আসন্ন সংসদ অধিবেশনে সরকারের এজেন্ডা কতটা জনবান্ধব হবে এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সমাধানে সরকার কতটা আন্তরিক থাকবে, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন মামুনুল হক। এ বিষয়ে সংসদ অধিবেশনের আগে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে আবারও বৈঠক হবে। আলোচনার ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে জানান তিনি।

গোপালগঞ্জে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি হলে দায় সরকারের:

লং মার্চের পথে গোপালগঞ্জ পড়লেও সেখানে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির আশঙ্কা করছেন না বলে জানান মামুনুল হক। তিনি বলেন, ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাকর্মীদের বহর গোপালগঞ্জের ওপর দিয়ে গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সজাগ থাকলে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হবে না।

গোপালগঞ্জে ইসলামপন্থি ও দেশপ্রেমিক বিপুলসংখ্যক মানুষ রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এবারও এসব মানুষ ব্যাপকভাবে রাজপথে থাকবেন। কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা অপতৎপরতা দেখা দিলে তা মোকাবিলা করা হবে। গোপালগঞ্জের প্রশাসনকে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনের কথা বলা হয়েছে। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হলে এর দায় সরকার ও প্রশাসনকে বহন করতে হবে।

রাষ্ট্র সংস্কারে বৃহত্তর ঐক্যের ঘোষণা:

রাষ্ট্র সংস্কার ও সংবিধান সংস্কারের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের অবস্থান তুলে ধরে মামুনুল হক বলেন, তাঁরা কোনো তামাশা করতে মাঠে নামেননি। বাংলাদেশের রাষ্ট্র মেরামত এবং হাজার হাজার শহীদের রক্তের দায় নিয়ে তাঁরা মাঠে নেমেছেন। কোনো ষড়যন্ত্র বা চক্রান্তে তাঁরা পা দেবেন না।

তিনি বলেন, এই ঐক্যকে শুধু বিরোধী দলের ঐক্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বাংলাদেশের রাষ্ট্র ও আগামী দিনের রাষ্ট্রের রূপরেখা নির্ধারণ, দেশের গতিপথ ঠিক করা, আধিপত্যবাদ মোকাবিলা এবং ফ্যাসিবাদের পথ রুদ্ধ করার লড়াইয়ে তাঁরা ঐক্যবদ্ধ রয়েছেন। আগামী দিনে এই ঐক্যের পরিসর আরও বাড়বে বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশ সময়: ১২:৩২:৫৫ ● ২৫ বার পঠিত